অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্তে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ ফিলিস্তিনি নারী বিক্ষোভকারী। মার্চ মাসের ৩০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ‘গ্রেট মার্চ অফ রিটার্নের’ অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনি নারীরা। ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার গাজা’র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদ্র এই বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি এই সমাবেশে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীরাও আহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ৩০ মার্চ থেকে ইসরাইলে নিজের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে গাহায় ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্তে টানা বিক্ষোভ করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ সালে তাদের পূর্বপুরুষদের নিজ ভূমি থেকে জোর করে বের দেয় ইসরাইল।

ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার দাবি ছাড়াও গাজার ওপর ইসরাইল ও মিসরের আকাশপথ, জলপথ ও স্থলপথে আরোপ করা অবরোধের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করছে ফিলিস্তিনিরা। ২০০৬ সাল থেকে এই অবরোধ জারি রয়েছে। গাজায় হামাস ক্ষমতায় আসার পরপরই এই অবরোধ জারি করা হয়।

আল জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসে করে দলে দলে বিক্ষোভস্থলে এসে পৌঁছায় নারীরা। অনেকের সঙ্গে তাদের সন্তানও রয়েছে। তারা ইসরাইলের সুরক্ষিত সীমান্ত বেষ্টনী থেকে ৫০ মিটার দূর দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন নারী হচ্ছেন রিম আবু ইরমানা। গ্রেট মার্চ অফ রিটার্নে অংশ নিয়ে পূর্বে তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে, ওয়াসাল মারা গেছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে যে পদযাত্রা শুরু করেছিল, আমি সেটা শেষ করতে এসেছি।

ইরমানা বলেন, এই সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণ। আমরা কেবল আমাদের অধিকার ও ভূমি রক্ষা করছি।

উল্লেখ্য, ৩০ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছে ১৩৮ ফিলিস্তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য