ইন্দোনেশিয়ায় ডুবতে বসা একটি ফেরিকে দ্বীপে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এর ক্যাপ্টেন। তবে আশিংক ডোবার পরই ফেরিতে থাকা ১৬৪ জন যাত্রীর ৩১ জন পানিতে পড়ে নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ আছেন তিনজন।

বুধবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। গত মাসে দেশটির সুমাত্রার তোবা লেকে আরেকটি ফেরি ডোবার ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি দ্বীপের কাছে সর্বশেষ ফেরি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া ফেরিটিতে ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ১৬৪ জন আরাহী ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনজন যাত্রী নিখোঁজ থাকলেও ১৩০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ফেরিটিতে মোট ৪৮টি যানবাহনও ছিল। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা শুরু করেছিল।

ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র পরিবহণ সংস্থার মহাপরিচালক আগুস এইচ পুরনোমো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফেরিটি ডুবে যাওয়া ঠেকাতে ও যাত্রীদের সহজে উদ্ধারের জন্য ক্যাপ্টেন ফেরিটিকে একটি প্রবাল দ্বীপে নিয়ে যান’। তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাপ্টেন ও জাহাজটির মালিক শেষ দুই ব্যক্তি হিসেবে জাহাজটি থেকে নেমেছেন’।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, হেলে পড়া ফেরিটির সঙ্গে বেশ কয়েকজন যাত্রী ঝুলে আছেন। আর কিছু যাত্রী লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ভাসছেন।

বিশাল দ্বীপপুঞ্জ ইন্দোনেশিয়া ১৭০০ এর বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটিতে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে। নৌ-ভ্রমণে নিরাপত্তা নিয়ম লঙ্ঘনসহ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ সেখানকার প্রায় নিয়মিত ঘটনা। সর্বশেষ গত সপ্তাহে সুমাত্রায় ফেরি ডুবির ঘটনা ছিল এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

ওই দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রায় দুই সপ্তাহের অনুসন্ধান শেষে ৪৫০ মিটার গভীরে জাহাজটির খোঁজ মেলে। তবে কারিগরি ও অন্যান্য কারণে উদ্ধার কাজ বন্ধ করা হয়। জাহাজটিতে আটকে পড়া অনেক যাত্রীর লাশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য