সিরিয়ায় বিগত বছরগুলোর সংঘর্ষের কারণে যেসব নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন তাদেরকে সিরিয়ায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দামেস্ক। সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করার পর এ আহ্বান জানাল দেশটির সরকার।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা সানাকে জানিয়েছেন, পুনরুদ্ধার হওয়া এলাকাগুলোর নাগরিকরা দেশে ফিরে এলে সরকার তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে। ওই কর্মকর্তা সিরিয়ার নাগরিকদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে আন্তর্জাতিক সমাজ ও মানবিক ত্রাণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার মানুষ দেশত্যাগ করেছে। দু’সপ্তাহ আগে দারা প্রদেশ পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। অভিযান শুরুর আগে সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পনের সুযোগ দেয়া হয়।

ওই সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী জর্দান সীমান্তে সিরিয়ার প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ভিড় জমায়। জর্দানে এর আগে থেকেই সিরিয়ার সাড় ছয় লাখ নিবন্ধিত শরণার্থী অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইউএনএইচসিআর জর্দান সরকারকে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানায়।

সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ মাসে বিদেশি মদদে সহিংসতা শুরু হয়। গত সাত বছরের সংঘর্ষে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও সিরিয়ার প্রায় অর্ধেক মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে শরণার্থী হয়েছেন অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ইউএনএইচসিআর বলেছে, সিরিয়ার ৫৬ লাখ নিবন্ধিত শরণার্থী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৩৫ লাখ তুরস্কে অবস্থান করছে। সিরিয়ার বাকি শরণার্থীরা যেসব দেশে ছড়িয়ে রয়েছে সেগুলোর মধ্যে লেবানন, জর্দান ও জার্মানি অন্যতম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য