মধ্য আষাড়ে অবিরাম বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়ছে ভাঙ্গছে নদী, কাঁদছে মানুষ। গত ২দিনের ভাঙ্গনে হোকডাঙ্গার হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম নিশ্চিন্ন ও শতাধিক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে সদ্য নির্মিত টি বাঁধ সহ ৫ গ্রামের হাজারো মানুষ। অবিরাম ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ী সরাতে হিমশিম খাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত মানুষজন। ভাঙ্গনে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছে।

উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তার ভাঙ্গন কবলিত হোকডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ভাঙ্গনের ভয়ালরুপ। চোখের সামনে ভেঙ্গে গেল পদ্ম বালা বর্মনীর বাড়ী ভিটা। একই ভাবে ভাঙ্গছে দালাল পাড়া,কড়াই পাড়া,গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা,নন্দু নেফরা,বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা,বাধেঁর বাজার,বগলা কুড়া ও সাতালস্কর গ্রাম।

ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকায় সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়া টি বাঁধ সহ ৫টি গ্রাম ও পাইকর পাড়া শ্যামলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি মন্দির। হোকডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক আব্দুল বারী সহ ভুক্তভোগিরা জানান, গতবার থেকে এ সব এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হলে ও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় চলতি বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানান তারা।

থেতরাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার তারামনি বর্মনী জানান, ৭ দিন ধরে ওই এলাকায় তিস্তার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ২ দিনের ভাঙ্গনে তার বাড়ী সহ পুরো হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম ২টি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙ্গনের তীব্রতায় অনেকে বাড়ীঘর সরাতে পারেনি ভেসে গেছে কয়েকটি ঘর। ভাঙ্গন পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে ঘরবাড়ী সরানোর লোকজন ছিল না গ্রামে। চলতি ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার ও গত বছর ৫০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙ্গনের ঝুকিতে পড়েছে আরো ৫০টি পরিবার।

ভাঙ্গনে ঘরবাড়ী হারিয়ে কয়েক গ্রামের মানুষজন দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে তবুও ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কেউ তাদের পাশে দাড়ায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৬৫),মনোরাম চন্দ্র বর্মন (৭৫) ও করিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)জানান, চলতি ভাঙ্গনে বাড়ীঘর হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়েছেন।

অর্থের অভাবে বাড়ীঘর করতে পাচ্ছেন না ঘরে খাবার ও নাই তাই অর্ধাহারে অনারে দিন কাটাচ্ছেন। আব্দুর রহমান(৭০) ও নরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, আমরা রিলিপ চাই না ভাঙ্গনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা চাই।

এ বিষয়ে থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইযুব আলী জানান, ওই এলাকায় প্রতি বছর নদী ভাঙ্গছে ভাঙ্গনরোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দ্রুত ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা পেলে আবাসন ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার ভাঙ্গনরোধে ৩৫ কিঃ এলাকায় ৭টি ”টি বাঁধ” নির্মানের জন্য ২‘শ ৪২ কোটি টাকার প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে প্রকল্প অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য