গত প্রায় ৩ মাস যাবৎ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় অবস্থিত ভাসমান তেল ডিপো যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বার্জ দুটি তেল শূন্য হয়ে পড়েছে। তেল ডিপো দু’টি তেল শূন্য হয়ে থাকায় এলাকায় তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এ নিয়ে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ডিপোর সুপারদের অবহেলায় তেল ডিপো দুটি তেল শুন্য হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জানা গেছে,১৯৮৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভাসমান তেল ডিপো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি কোম্পানী স্থাপিত হয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলায় তেল সরবরাহ করে আসছিল।

কয়েক বছরের মাথায় পদ্মা তেল কোম্পানীটি বার্জ মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী দুটি এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তেল সরবরাহ করে আসছে। গত কয়েক মাস পূর্বে মেঘনা কোম্পানী তাদের বার্জটি সুবিধামত জায়গায় নিতে না পারায় যাতায়াত ব্যবস্থার অজুহাতে কোম্পানীটির তেল বিক্রি কমে যায়। এতে যমুনা কোম্পানীর তেল বিক্রি বেড়ে যায়। অজানা কারনে বর্তমানে তেল ডিপো দু’টি তেল শুন্য হয়ে পড়ে রয়েছে।

ভাসমান তেল ডিপো দু’টির অনুমোদিত ২২জন ডিলার প্রতি লিটার তেল ৬২ টাকা ৫১ পয়সায় ক্রয় ক্রয় করে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করেন। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি লিটার তেল বিক্রি করেন ৬৫ টাকায়।

যমুনা ও মেঘনা তেল ডিপো দু’টি তেল শুন্য হওয়ায় পার্বতীপুর থেকে সড়কপথে তেল পরিবহন করলে ১লড়ি অর্থাৎ ৯ হাজার লিটার তেল আনতে অতিরিক্ত পরিবহন ও লেবার খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টাকা। যা প্রতি লিটারে প্রায় ১ টাকা ৭৫ পয়সা বেশী। সব মিলে ডিলারদের তেল কিনতে হয় ৬৪টাকা ২৬পয়সায়। এরপর খুচরা বিক্রেতা থেকে খুচরা ক্রেতা। ফলে ক্রেতাদের তেল কিনতে হচ্ছে ৬৭-৬৮টাকায়।

উপজেলার চাহিদা মিটানোর পর নারায়নপুর, যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা, রৌমারী, রাজিবপুর, সানন্দবাড়ী, জাফরগঞ্জ,কামারজানী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ মৌসুমে ভাসমান তেল ডিপো থেকে প্রতিদিনের তেলের চাহিদা প্রায় ১হাজার ৫শ ব্যারেল বা ৩ লাখ লিটার হলেও বর্তমান সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদে চালিত নৌকা, ড্রেজার মেশিন, বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চালিত জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ী, নছিমন-করিমনসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭শ ব্যারেল বা ১লাখ ৪০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। ডিলাররা অন্য ডিপো থেকে তেল নিয়ে স্থানীয়সহ বিদ্যমান এলাকা সমুহের তেলের চাহিদা পুরন করতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

এতে প্রায় প্রতিদিন ৪লাখ ২০হাজার টাকা অতিরিক্ত লেনদেন হচ্ছে এলাকায় সৃষ্ট তেল বাজারে। শুধু তাই নয়,এভাবে চলতে থাকলে ডিলারদের হাতে থাকা দীর্ঘ দিনের খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতা হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ফলে চিলমারীর তেল ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রেতাদের নিকট পড়ে থাকা বাকী অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে।

অপরদিকে ডিপো দুটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন খেটে খাওয়া প্রায় ৩শ শ্রমিক কাজ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে।

চিলমারী ভাসমান তেল ডিপো দুটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তেল বাজার জোড়গাছ বাজারে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় খুচরা তেল ব্যবসায়ী নুর ই আলম বাদল, রাশেদুল ইসলাম, মমিনুল, ধীরেন্দ্র নাথসহ অনেকের সাথে। তারা বলেন, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল নিতে অতিরিক্ত খরচ না থাকায় আমরা প্রতি লিটার তেল ৬৫ টাকায় বিক্রি করেছিলাম।

বর্তমানে দুর থেকে তেল আনতে পরিবহন খরচ বেশী হওয়ায় বেশী দামে তেল বিক্রি করছি। এসময় কথা হয় ক্রেতা আফসার আলী ও সুলতানের সাথে। তারা জানায় ডিপোতে তেল না থাকায় প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় তেল কিনতে আমাদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে অনেক টাকা।
কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জ্বালানী চাহিদা পুরন করে আসছে ওই ভাসমান তেল ডিপো দুটি।উপরোক্ত জেলা সমুহের চরাঞ্চলের কৃষকদের বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় তারা শুধুমাত্র জ্বালানী তেলের উপর নির্ভরশীল। তাই মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী দুটি তেলশূন্য থাকায় সুবিধাভোগীরা তেল সংকটে ভুগছেন।

তেল ব্যবসায়ী নজির এন্ড সন্স এর সত্বাধিকারী মাইদুল ইসলাম জানান, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি থেকে সড়কপথে তেল পরিবহন করলে লিটারপ্রতি প্রায় ২ টাকা বেশি খরচ হয় ফলে ক্রেতাদের অধিক মূলে তেল কিনতে হয়। তাই জনগণের সুবিধার্থে ডিপো দুটিতে তেলের মুজদ বাড়িয়ে এ অঞ্চলে জ্বালানী তেলের সংকট নিরসন করা দরকার। বর্তমানে তেল ডিপো দুটির ডিপো সুপাররা বিক্রয় শুন্য দেখিয়ে ডিপো দু’টি সরিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

এ ব্যাপারে মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো সুপার আবু সাঈদ জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ করলে বিতরনে কোন বাধা নাই। তিনি আরও বলেন, তেল সরবরাহের পাশা-পাশি ডিপোটি সড়ক পথের নিকটবর্তী স্থানে রাখা প্রয়োজন।

মেঘনা কোম্পানীর এজিএম (সাপ্লাইয়ার ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগ,চটÍগ্রাম) টিপু সুলতান মুঠোফোনে জানান, নদীর নাব্যতা না থাকায় তেল ভর্তি জাহাজ কখনো কখনো পাঠানো সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, আমরা তেল পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।

এদিকে যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিএস মোঃ শাহাজালাল এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য