ইরানে যেন বৃষ্টি না হয়, সেজন্য ইসরায়েল ‘আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন এক ইরানি জেনারেল।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা জালালি বলেছেন, তার দেশ ‘মেঘ ও তুষার’ চুরির শিকার হচ্ছে।

ইরানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার এ প্রধান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন বলে আধা সায়ত্ত্বশাসিত বার্তা সংস্থা ইসনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি।

“ইরানের পরিবর্তিত জলবায়ু বেশ সন্দেহজনক। এই জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়েও সন্দেহ করা হচ্ছে,” ইরানের করা এক বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্যে ‘নিশ্চিত হয়ে’ জালালি এমনটাই বলেছেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

ইরানে প্রবেশ করা মেঘ থেকে যেন বৃষ্টি না ঝরে তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলের অন্য একটি দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ এ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার।

“আমরা মেঘ ও তুষার চুরির শিকার হচ্ছি,” আফগানিস্তান থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সকল পাহাড়ি এলাকার দুই হাজার ২০০ মিটার উপর পর্যন্ত চালানো এক জরিপকে উদ্ধৃত করে বলেছেন জালালি।

ওই জরিপে ইরানি ভূখণ্ড বাদে বাকি এলাকাগুলো ঠিকই তুষারে আবৃত বলে দেখা গেছে, জানান তিনি।

জালালির এই অভিযোগের ব্যাপারে দ্বিমত করেছেন তারই দেশের আবহাওয়া বিভাগের প্রধান।

“তার কাছে সম্ভবত এমন কিছু নথি আছে, যে বিষয়ে আমি অবগত নই। যদিও আবহাওয়া বিষয়ক জ্ঞানে বলতে পারি, কোনো দেশের কাছ থেকে তুষার বা মেঘ চুরি সম্ভব নয়। ইরান একটি দীর্ঘায়িত খরায় ভুগছে, আবহাওয়ার এ প্রবণতাটা বৈশ্বিক, খালি আমাদের বেলাতেই হচ্ছে, এমন নয়।

“এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন, কেবল যে সমস্যার সমাধানই করতে দেবে না, তা নয়, এটি সঠিক সমাধান বের করার উপায় থেকেও দূরে রাখবে,” বলেছেন ইরানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান আহাদ ভাজিফ।

‘শত্রু দেশগুলোর’ বিরুদ্ধে ইরানের কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের’ অভিযোগ এটাই প্রথম নয়।

দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও ২০১১ সালে খরার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ‘ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা’ কে দায়ী করেছিলেন।

“ইউরোপের দেশগুলো তাদের মহাদেশের ওপরই বৃষ্টি ঝরাতে বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে,” বলেছিলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য