শরীরের তুলনায় একটু বেশি বড় ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু শ্যামা রায়ের মাথা। এই বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও রোগে ভোগার কারণে এখন সারাদিন বাড়িতেই শুয়ে সময় কাটে তার। তার বাড়ি জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সাটিয়া গ্রামে।

তার বাবা জিতেন্দ্রনাথ রায় ও তার পরিবার জানায়, স্বাভাবিক শিশুর মতো জন্ম নেওয়ার দুই মাস পর হঠাৎ করেই জ্বর হয় শ্যামার। এরপর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওষুধে জ্বর ভালো হলেও দেখা দেয় শারিরীক সমস্যা।

মাথার তালু তুলতুলে নরম হয়ে যায়। এরপর দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে মাথা। জানা যায়, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছে ও। তবে সুস্থতা মেলেনি। বর্তমান তার বয়স ৮ বছর ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাথা সোজা করে রাখতে ও হাঁটতে পারে না শ্যামা। অল্প অল্প কথা বলতে পারে ও। স্থানীয় চিকিৎসকরা বলেছেন ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠবে শিশু শ্যামা রায়।

কিন্তু অভাবের কারণে ভূমিহীন দিনমুজুর বাবা-মায়ের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। দিনমুজুর বাবা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “হামরা তো এমনিতেই মাইনছের জমিত ঘর করে আছি। এই ছেলেডার পিছনত মেলা টাকা ফুরাইছি। ডাক্তার ঢাকা লেগবা কহিজে। হামার তো এতলা টাকা নাই। মর বউ আর মুই মাইনছের জমিত কাম করে যা টাকা পাই তা দেহেনেই সংসারের খরচ চলে। ”

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের মেডিকেল অফিসার হুমায়ুন কবীর জানান, “এ রোগের নাম হাইড্রোকেফালাস। এ বয়সে উন্নত চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে শিশুটির। “

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য