সৌদি আরব এখন যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করে দরকার হলে তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির বাদশা সালমান বিন আব্দুলআজিজ।

প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের ক্ষমতা সৌদি আরবের আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্পের অনুরোধে সৌদি বাদশা প্রয়োজনে তেল উৎপাদন বাড়ানোর এ প্রতিশ্রুতি দেন বলে শনিবার জানিয়েছে হোয়াইট হাউস, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এর আগে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টেও ট্রাম্প সৌদি আরব তেলের উৎপাদন বাড়াবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

সৌদি বাদশার সঙ্গে আলাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেলের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। জবাবে সালমান প্রয়োজন হলে তার দেশ তেল উৎপাদন বাড়াবে বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেন।

“বাদশা সালমান জানান, তার দেশের এখনি প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে; বাজারের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই ওই সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি,” বিবৃতিতে বলেছে হোয়াইট হাউস।

তেল রপ্তানিকারক দেশের জোট ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব চলতি মাস থেকেই তেলের উৎপাদন দিনপ্রতি ২ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল বলে এ সপ্তাহের শুরুর দিকে উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল।

রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ ওপেকের সদস্য নয়।

ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলোর ২২ জুনের এক বৈঠকে তেলের উৎপাদন দিনপ্রতি ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ওই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি নিলেও দিনপ্রতি ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি তেলের বাজারের বিদ্যমান প্রত্যাশার চেয়েও অনেকগুণ বেশি হবে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতির আগেই শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেছিলেন, সৌদি আরবকে তেল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতেই হবে।

“মাত্রই সৌদি বাদশা সালমানের সঙ্গে কথা হল। ইরান ও ভেনিজুয়েলার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বোঝালাম। ঘাটতি মেটাতে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন, সর্বোচ্চ ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত বাড়াতে অনুরোধ করলাম, দাম এখন অনেক বেশি। তিনি রাজি হয়েছেন,” বলেছেন ট্রাম্প।

বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা এখন দিনপ্রতি ১০ কোটি ব্যারেলের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রিয়াদ যে ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দিনপ্রতি কি না তা নিশ্চিত করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত ইরান চুক্তি থেকে মে মাসে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র; ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের তেল রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ইরানের সরবরাহ করা তেলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতেই ট্রাম্প সৌদি বাদশাকে ওই অনুরোধ করেছেন বলেও ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য