আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে শতাধিক পাথরভাঙা যন্ত্রে গুঁড়ো করা হচ্ছে পাথর। ফলে পাথরের গুঁড়োয় ছড়াচ্ছে সিলিকোসিসসহ নানা জটিল রোগ। এখানে পাথর গুঁড়ো করায় নিয়োজিত শ্রমিকরা সিলিকোসিস নামের মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

গেল কয়েক বছরে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাথর গুঁড়ো করার ক্রাসিং মেশিন তথা পাথরভাঙা যন্ত্রে কাজ করে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মিছিলে একের পর এক নতুন মুখ যোগ হলেও দু’মুঠো খাবারের সংস্থান করতে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অভাবী দিনমজুররা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জানাগেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে প্রতিদিন দেড় শতাধিক পাথরবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব ট্রাকের পাথর বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় যত্রতত্র রেখে শতাধিক পাথরভাঙা যন্ত্রে গুঁড়ো করা হয়। পাথরের গড়ায় মরণব্যাধি সিলিকোসিস রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নারী-পুরুষ শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে ক্রাসিং মেশিনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় কাজের অভাব প্রকট।

তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা ক্রাসিং মেশিনের পাথরভাঙা মৃত্যুফাঁদে নিজেদের জড়িয়ে নেন। তবে পাথর শ্রমিকরা যদি ফেস মাস্ক ব্যবহার করেন তবে সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু কেউই মাস্ক ব্যবহার করেন না। একদিকে কর্তৃপক্ষ মাস্ক সরবরাহ করে না, অন্যদিকে অনেক শ্রমিক এ ব্যাপারে সচেতন নন।

মাস্ক ব্যবহার না করা ও শ্রমিকদের সচেতনতার অভাবে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে চলছে। মেশিনে পাথর গুঁড়ো করার সময় শ্রমিকদের চোখ-মুখ-নাকসহ পুরো শরীর পাথরের ধুলায় ঢেকে যায়। নিশ্বাসের সঙ্গে পাথরের গুঁড়ার ধুলা নাক ও মুখের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে চলে যায়। এতে ধীরে ধীরে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হন শ্রমিকরা। বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে কথা হয় অহেদ মিয়া ও মনছুর আলীর সঙ্গে। তারা দুঃখ করে জানান, ক্রাসিং মেশিনে পাথর গুঁড়ো করা কাজ করে তারা সিলোকোসিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথর ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান পরাগ বলেন, পৃথক নিরাপদ জায়গা না পাওয়ায় অনেকেই রাস্তার পাশে ক্রাসিং মেশিন বসিয়ে পাথর গুঁড়ো করছেন। তবে ধুলাবালু যাতে না ছড়ায় এ জন্য শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে পাথর ক্রাসিং করার জন্য বলা হয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সফর উদ্দিন বলেন, স্থানীয় শ্রমিকদের সিলিকোসিস বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, পাথর ক্রাসিংয়ের সময় যাতে ধুলাবালি না ছড়ায় এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তিরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ কাশেম আলী সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছরে ৬৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ রোগে আরও সহস্রাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফেসমাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য