রজব আলী ফুলবাড়ী থেকেঃ দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি নবায়ন না করা হলে, আবারো লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খনিটির উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য পেট্রবাংলার গঠিত কমিটি, গত ১০ পুর্বে, বর্তমান খনিতে পাথর উত্তোলনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র সাথে সম্পাদিত চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি করার সুপারিশ করলেও, এখন পর্যন্ত সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এদিকে খনিটির উৎপাদন ও রক্ষনা বেক্ষনার দায়ীত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কাজে অসহযোগীতা করার অভিযোগ উঠেছে খনি কর্তৃপক্ষের উপর। এতেকরে খনিটিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে মধ্যেপাড়া পাথর খনিটিতে গত ২০০৭ সাল থেকে, খনি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় বানিজ্যিক ভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় দিনে ২ হাজার টন পাথর উত্তোলন হলেও, ২০১২ সালে এসে প্রতিদিনের পাথর উত্তোলন হয় মাত্র ৮০০ টন। এতেকরে খনিটি ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২শ কোটি টাকা লোকশান করে। এই কারনে খনিটির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে, মধ্যপাড়া গ্রনাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ (এমজিএমসিএল) গত ২০১৩ সালে ৩ সেপ্টেম্বর জার্মনিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম (জিটিসি) এর সাথে খনিটির উৎপাদন রক্ষনা-বেক্ষনা করার ছয় বছর ম্যায়াদে চুক্তি করে।

চুক্তি অনযায়ী জিটিসি ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। এতে পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পেয়ে, প্রতিদিনে পাথর উত্তোলন হয় সাড়ে ৪ হাজার টন। ফলে খনিটি লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে, কিন্তু খনিতে উৎপাদন যন্ত্র না থাকায়,গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবারো পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিদেশ থেকে বিশ্বমানের খনিজ যন্ত্র আমদানী করে খনিটিতে স্থাপন করে ও নতুন স্টোপ তৈরী করে গত ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে আবারো পাথর উত্তোলন শুরু করে। বর্তমানে খনিটিতে প্রতিদিন পাথর উত্তোলন হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টন।

জিটিস’র সাথে ৬ বছর পাথর উত্তোলনের চুক্তি থাকলেও খনিজ যন্ত্রের অভাবে ২ বছর পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল, এই কারনে পেট্রবাংলার গঠিত কমিটি গত ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেন, কিন্তু অধ্যবধি সেই সুপারিশ অনুযায়ী চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি করার কোন পদক্ষেপ নেয়নি খনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চুক্তির ৬ বছরের মধ্যে সাড়ে ৪ বছর শেষ হয়েছে, যদি কুক্তি নাবায়ন কিংবা ম্যায়াদ বৃদ্ধি না করা হয়, তাহলে আগামী ডের বছর পর খনিটিতে পাথর উত্তোলনের ধ্বস নামতে পারে, এতেকরে খনিটি আবারো লোকশানের মুখে পড়বে।

জিটিসি কর্তৃপক্ষ বলছেন খনি কর্তৃপক্ষ টাকা সরবরাহ করতে দেরী করায়, খনিজ যন্ত্র আমদানী করতে দেরী হয়েছে, ফলে খনি মাঝপথে ২ বছর বন্ধ ছিল। তারা আরো বলেন বর্তমানে খনিটিতে বিশ্বমানের উৎপাদন যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে, আর খনিতে দেশি-বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রায় শতাধিক খনিজ প্রকৌশলী কাজ করছে ফলে খনিটিতে দিনদিন পাথর উত্তোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি করা হলে খনিটি আরো লাভের দিকে যাবে।

সরজমিনে খনিতে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কর্মকর্তাদের সাথে খনি কর্মকর্তারা দুরুত্ব রেখে চলাচল করছে, খনিটিতে কাজে ব্যবহারীত যে কোন সহযোগীতার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অগ্রীম পত্র দিয়েও সময়মত সরবরাহ পাচ্ছেনা।

ছয় মাস পুর্বে চাহিদা দিয়েও, সময়মত বিস্ফ্রোক সরবরাহ না পাওয়ায় চলতি সনের গত ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত খনিটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি বলছেন বিস্ফ্রোক এর মজুদ শেষ হয়ে আসায় গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে চাহিদা দেয়া হয়েছিল, তার পরেও সময়মত বিস্ফ্রোক সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এতে করে ১০ দিনে প্রায় ৫০ হাজার টন পাথর উত্তোলন থেকে বঞ্চিত হয়েছে খনিটি।

এই বিষয়ে মধ্যপাড়া গ্রনাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সম্রাট নুরুল আওরঙ্গজেব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে খনি কতৃপক্ষের কোন দুরত্ব নেই, কোম্পানীর দেয়া পরামর্শে তারা (ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান) কাজ করছে, তিনি আরো বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র এখনো চুক্তির ম্যায়াদ এক বছরের অধিক রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে তারা ভাল কর্ম দেখাতে পারলে, কতৃপক্ষ চুক্তির ম্যায়াদ বৃদ্ধি অথবা চুক্তি নাবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য