আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: একেবারে তরতাজা তরুণ থাকতে পত্রিকা বিলির কাজ শুরু করেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ এলাকার মোহাম্মদ আলী(৭৫)। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে দেখেন, পত্রিকা বিলি করার এই কাজে ৩৫বছর পার হয়ে গেছে।

তিনি এর আগে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জরিত ছিল। সব কিছু ছেড়ে হাতে তুলে নেন পত্রিকা। সেই শুরু। এরপর থেকে এখনো চলছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় বা কনকনে শীত, যা-ই থাকুক না কেন, সব সামলে পত্রিকা ঠিকই পাঠকের দ্বারে পৌঁছে দেন মোহাম্মদ আলী। বয়সের ভারে একটু বেড়াতে সমস্যা হলেও দমে যাননি। একটু ভালো বোধ করলেই কয়েকটি পত্রিকা হাতে বেরিয়ে পড়েন। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করেন।

বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট আসার পথে চোখে পড়লো বৃদ্ধ বয়সে ট্রেনে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন দৈনিক জাতীয় পত্রিকা গুলো।

জানাগেছে, মোহাম্মদ আলী লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পাঁচ ছেলে মেয়ে। পত্রিকা বিক্রি করে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় লেখাপড়া করিয়েছেন তিনি। সন্তানরা এখন বিভিন্ন পেশায় জড়িত রয়েছেন। তবুও এ বয়সে ছাড়তে পারেননি
পত্রিকা বিক্রির কাজ।

বণিকবার্তার লালমনিরহাট প্রতিনিধি মোয়জ্জেম হোসেন বলেন, একজন সিনিয়ার সংবাদপত্র বিক্রিকে স্থানীয় লোকেরাও বেশ সম্মানের চোখে দেখছেন। দিনমজুর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত প্রত্যেক মানুষ এখন তাঁকে মূল্যায়ন করেন। এ বয়সে একজন সংবাদ কর্মী হয়েও স্থানীয় সংবাদপত্র এজেন্টের কাছেও মোহাম্মদ আলীর মর্যাদায় আছেন।

হিসাব-নিকাশ, টাকাপয়সার লেনদেন—সবকিছুতেই মোহাম্মদ আলী বেশ স্বচ্ছ বলে জানান লালমনিরহাট সদরের সংবাদপত্র এজেন্ট ছাদিকুল ইসলাম ছাদেক। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ ব্যাগে দিনে দিনে পত্রিকা বাড়ছে। সে খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করে। দোকানে এসে নিজেই পত্রিকা গুনে, গুছিয়ে নেন। আবার মাস শেষ হতেই বিক্রির টাকা বুঝিয়ে দেয়। ফলে তার সঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় না।’

মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে তার ভালোই চলে। এ বৃদ্ধ বয়সে সমাজের বোঝা না হয়ে একজন বেকার বৃদ্ধ ইচ্ছে করলেই তার মতো পরিশ্রম করে চলতে পারে। ফিরিয়ে আনতে পারে সংসারের সচ্ছলতা। এছাড়া সংবাদপত্র বিক্রির কাজটি তার ভালো লাগে। মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেয়া তার পেশার থেকে নেশা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য