আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটসহ উত্তরের জেলা গুলোর যাত্রীদের পরিবহনের জন্য রমজানের ঈদুল ফিতরে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত ১৪ টি কোচ মেরামত করে সংযোজন করা হয়।

ওই টেনের কোচ গুলো গত ৬ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে লালমনি এক্সপ্রেসের নামে স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস শুরু করলেও ৬ দিন পর ১২ জনু কোচ গুলোতে ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে চালুর ৬ দিনের মাথায় কোচগুলোকে ‘ড্যামেজ’ বা অচল ঘোষণা করে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় অঞ্চল ।

তবে আবারও মেরামত শেষে আগামী শনিবার থেকে নতুন করে কোচ গুলো চালু হতে পারে বলে জানান রেলওয়ে সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা ।

রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে ইরান থেকে আমদানি করা কিছু কোচ পরিত্যক্ত ঘোষণার পরে দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার ইয়ার্ডে পড়েছিল। এর মধ্যে ১৯টি কোচ গত বছর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এনে মেরামত ও রং করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় অঞ্চলে আমাদের কাছে ট্রেনের নতুন কোনো না থাকায় পুর্ব অঞ্চল রেলওয়ের ২ টি কোচ সহ মোট ১৯ টি পুরাতন কোচ মেরামত করা হয়েছে।

কোচ গুলোর ৭০ থেকে ৮০ ভাগ যন্ত্র মেরামত করা হয়েছে। প্রতিটি কোচ মেরামতে ৭০ লক্ষ টাকা মেরামত ব্যয় ধরা হলেও ব্যয় হয়েছে কোচ প্রতি ৫০ লক্ষ টাকা করে। এতে ১৯ টি কোচে ১৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকার বরাদের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ওই কোচ গুলো মেরামত করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

ঈদে ঘর মুখী যাত্রীর চাপ থাকায় কোচ গুলো কিছু মেরামত না করেই চালু করা হয়ে ছিলো। মেরামতকৃত কোচের মধ্যে ১৪ টি ঈদুল ফিতরে স্পেশাল ট্রেন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া লালমনি এক্সপ্রেসে সংযোজন করা হয়।

৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে লালমনি এক্সপ্রেসের এই স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস শুরু হয়। কিন্তু ১২ জুন কোচগুলোর ২ টি কোচে ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে ১৩ জুন ১৪ টি কোচকে অচল ঘোষণা করে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের মেকানিক্যাল বিভাগ। লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের খোলা ইয়ার্ডে কোচ গুলো রাখা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত চলছে। আজ-কালের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে। আগামী শনিবার থেকে আবারও কোচ গুলো চালু হতে পারে বলে জানান রেলওয়ের এ কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট থেকে ট্রেনে ঢাকা যাত্রী স্কুল শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় তিনবিঘা আঙ্গরপোতা দহগ্রাম ছিটমহল বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়ে ছিলেন, তিনবিঘা এক্সপ্রেস নামে ঢাকা গামী একটি ট্রেন চালু করবেন। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে আমাদের সড়ক পথে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে চরম দূভোর্গের শিকার হতে হচ্ছে। তারপরও ঈদের আগে লালমনি এক্সপ্রেস টেনে নতুন কোচ চালু হওয়ায় আমরা জেলাবাসী খুশি হয়ে ছিলাম। কিন্তু পরিত্যক্ত কোচে রং লাগিয়ে আমাদের দেয়া হয়ে ছিলো তা জানতাম না।

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় অঞ্চলের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত কোচগুলো ড্যামেজ ঘোষণা করতে হয়েছে। কোচগুলো দ্রুত মেরামত করে সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বুড়িমারী তিনবিঘা এক্সপ্রেস চালু হবে। অল্প সময়ের মধ্যে লালমনি এক্সপ্রেসে নতুন সংযোজন কোচ গুলো কি কারণে অচল হলো তা রেলওয়ে তদন্ত করে দেখছে। আমি রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছি শ্রীঘই আবারও নতুন কোচ সংযোজন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য