দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত না করার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন “বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি” দিনাজপুর জেলা ইউনিট এর ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

২৬ জুন মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এর হাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণের জন্য এই স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনটির জেলা ইউনিটের সভাপতি দিলীপ কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক খন্দ. খালিদ হোসেনসহ অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে স্মারকলিপিতে শিক্ষকবৃন্দ বলেন, জাতিকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা উন্নয়নের অংশ হিসেবে আপনার নির্দেশনার ভিত্তিতে ২৮৩ টি কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উচ্চ শিক্ষাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেবার এই মহতী উদ্যোগকে আমারা স্বাগত জানাবার পাশাপাশি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় পনেরো হাজার কর্মকর্তার একটি উদ্বেগ ও হৃদায়াকুতির বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেটি হলো সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত না করা প্রসঙ্গে।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, আপনার বিদ্যা ও জ্ঞানানুরাগ সর্বজনবিদিত। মেধা ও যোগ্যতাকে আপনি সর্বোচ্চ স্থানে রাখেন সেটাও আমাদের অজানা নয়। আপনি জানেন সরকারি কর্মকমিশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ লাভ কত খানি কষ্টসাধ্য বিষয়।

এ কঠোর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিগণ অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতোই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করে থাকেন। কিন্তু বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া এবং ক্যাডার সার্ভিসের নীতিমালা অনুসরণ ব্যতিরেকে কলেজ জাতীয়করণের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করা হলে তা হবে শিক্ষানীতি, যুক্তি ও ইনসাফের পরিপন্থী এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনে আপনার সদিচ্ছার অন্তরায়। এর ফলে শিক্ষা ক্যাডারে বৈষম্য ও অন্তদ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করবে। জাতির উন্নয়নে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার যে মহান লক্ষ নিয়ে আপনি কলেজগুলো জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি হবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সদস্যগণ কলেজ জাতীয় করণের বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের মর্যাদা ও অবস্থানগত একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য থাক।

ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করেন যে, আমরা পনেরো হাজার ক্যাডার সদস্য আপনার ন্যায়দর্শী নির্দেশনার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছি। আমরা ২৮৩ টি কলেজ জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বেই জাতীয়করণকৃত কলেজসমূহের শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রেখে একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনার আশায় ইতোপূর্বে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় আপনার প্রকাশিত মনোভাবে আমরা শতভাগ আস্থা রেখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই গণমাধ্যমের খবরে আমরা জানতে পেরেছি যে, জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের নিয়মিত বিসিএস করে বাইরে বিশেষ ধরনের নামকাওয়াস্তে পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্ত করা হবে।

এ সংবাদে আমরা উদ্বিগ্ন ও হতাশ। এই প্রক্রিয়াটি পিএসসির নিয়োগবিধির এবং আপনার সুচিন্তিত অনুশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক। মেধা ও যোগ্যতার প্রতি এটা হবে অবিচার। তাই পুলিশী যাচাই বাছাই ও ছাড়পত্র ছাড়া ঢালাও আত্তীককরণ যেমন কাম্য নয়, তেমনি নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষার বাইরে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্তকরণ গোটা ক্যাডার সার্ভিসের জন্য অমর্যাদাকর এবং আপনার অনুশাসন, আইন ও ইনসাফের পরিপন্থী আমরা এ বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টির আশা বুকে লালন করে আছি। আশা করি আমরা আপনার কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হবো না।

স্মারকলিপি প্রদানকালে দিনাজপুরের সকল সরকারি কলেজ শিক্ষকদের পক্ষে প্রানিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জিব কুমার সাহা, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাফুদ্দিন এমরান ও ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য ক্যাডার কর্মককর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য