দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বন্যার প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের আত্রাই নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। বিগত ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ শেখপুরা ইউনিয়নের নগেন্দ্র নাথ রায়, বিমল চন্দ্র সরকার, ইউসুফ আলী, আব্দুল জব্বার, দীপ্তি রানী রায়সহ অনেকে জানান বিগত ভয়াবহ বন্যায় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই আবার বর্ষা শুরু হয়েছে।

বিগত বন্যায় আত্রাই নদীর ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধে এখন পর্যন্ত এক ডালি মাটিও ফেলা হয়নি। ইতিমধ্যে বর্ষার কারণে অত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। নদীর পানি আরো বৃদ্ধি হলে এই ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট ও শত শত পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার আসংখ্যা রয়েছে। যাকে কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষীরাও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নদী সংলগ্ন গ্রামগুলির আধা কাচা মাটির বাড়ীগুলিও হুমকির মুখে অবস্থান করছে।

এব্যাপারে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল আখতার জানান, গত ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আত্রাই নদীর বাধ বন্যার পর পর সদর উপজেলা প্রকৌশলী ও দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর কিসামত মাধবপুর থেকে উত্তর জয়দেবপুর জ্যো¯œা বারুনী পর্যন্ত আত্রই নদীর বাঁধ সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন এমনকি একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে অনুরোধ করার পরও কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ কারণেই অত্র ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোঃ ফারুক হাসান জানান, নদী ও পানি সংশ্লিষ্ট বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আত্রাই নদীর পার কিংবা বাধ যাই হোক না কেন নদী সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পানি উন্নয়ন বোর্ডের। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ হলো রাস্তাঘাট, স্কুল, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার করা। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফইজুর রহমান জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের আত্রাই নদীর যে অংশটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটি মূলত গ্রামীণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এটি সংস্কারের দায়িত্ব উপজেলা প্রকল্প অফিসের পিআইও’র।

দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, সদর উপজেলার ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের কিসামত মাধবপুর আত্রাই নদীর যে অংশটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এটি নদীর পাড় গ্রামীণ সড়ক না। এতবড় বড় অংকের কাজ আমাদের পক্ষে সমাপ্ত করা সম্ভব নয়। আমরা ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকি। এই নদীর বাধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য