নাইজেরিয়ার প্লাটিয়াউ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছে। বেরোম সম্প্রদায়ের কৃষক ও ফুলানি সম্প্রদায়ের রাখালদের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২১ জুন) থেকে শনিবার (২৩ জুন) পর্যন্ত কয়েক দফায় এ সংঘাত হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ঘর-বাড়ি, মোটর বাইক ও যানবাহন। রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষের পর গ্রামে গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রাজ্যের তিনটি অংশে জারি করা হয়েছে কারফিউ। প্লাটিয়াউ পুলিশকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এসব কথা জানিয়েছে।

জমির ওপর আধিপত্য বিস্তার ও পশু চরানোকে কেন্দ্র করে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য প্লাটিয়াউতে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বছরের পর বছর ধরে সংঘর্ষ হয়ে আসছে। বিভিন্ন খবরকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, এবারের সংঘর্ষের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (২১ জুন) থেকে। এদিন বেরোম কৃষকরা ফুলানি রাখালদের আক্রমণ করলে ৫ জন নিহত হয়। শনিবার (২ত জুন) প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ফুলানি। এদিন দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরও প্রাণহানি হয়।

প্লাটিয়াউ রাজ্য পুলিশের কমিশনার আন্ডি এডি বলেন, রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে ৮৬ জন নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার খবর পেয়ে গ্রামে গ্রামে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সহিংসতা চলার সময় ৫০টি বাড়ি-ঘর, ১৫টি মোটর বাইক ও ২টি যান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি ঠেকাতে কারফিউ জারি করেছে প্লাটিয়াউ-এর রাজ্য সরকার। এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রিয়োম, বারিকিন লাডি ও জস সাউথ এলাকায় কারফিউ জারি থাকবে। ‘আইন-শৃঙ্খলা’ যেন ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এ কারফিউ জারি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইজেরিয়ার জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন কিছু না হলেও সম্প্রতি পুরনো সেই সংঘাত নতুন মাত্রার নৃশংসতায় পরিণত হয়েছে। গত বছর এ সহিংসতা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নিয়েছিল, নিহত হয় হাজারো মানুষ। রাখালদের বেশিরভাগই ফুলানি গোষ্ঠীর এবং তারা বেশিরভাগই মুসলিম। আর কৃষকদের বেশিরভাগই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

সম্প্রতি সহিংসতার মাত্রা বাড়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বুহারি নিজেও ফুলানি সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের উত্তেজনা নিরসনের জন্য তিনিও চাপের মুখে রয়েছেন। তার দাবি, লিবিয়া থেকে অতিরিক্ত অস্ত্র আসার কারণে সহিংসতা বেড়েছে। কেউ কেউ আবার উত্তরাঞ্চলে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম ও দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য