দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়ার নদীর সঙ্গমস্থল ঋষিঘাটে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের দশহারা বারুনী মেলা । দশহারা বারুনী মেলায় হাজার হাজার ভক্ত প্রাণ গঙ্গায় পূণ্য স্নানে সমবেত হয়েছে। এ নদীর জল হিন্দুধর্মালম্বীদের কাছে পূর্ন পবিত্র হওয়ায় আদিকাল থেকেই এ মেলা চলে আসছে।

শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। সেই আদিকাল থেকেই করতোয়া নদীর জল হিন্দুধর্মালম্বীদের কাছে পূর্ণ পবিত্র। হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্ত গণের বিশ্বাস-দশহারায় করতোয়া নদীর স্নান খুবই পূণ্যের। এ স্নানে ব্রক্ষ্মা সন্তুষ্ট লাভ করে পাপ মোচন হয়। এ বিশ্বাস নিয়েই সুদীর্ঘ কাল ধরে এ স্নানে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন ঘোড়াঘাটের ঋৃষিঘাটে । এ কারনে প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে পাপ শৃঙ্খলের এ উৎসবে আগত হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ হয়ে ওঠে মহা মিলন কেন্দ্রে।

এখানে পূণ্য স্নান সহজে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সরকারী উদ্যোগে স্নান ঘাট নির্মিত হয়েছে। এ মেলা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসে এখানে। মেলার সময় এলে আগে থেকেই পাশের গ্রাম গুলোতে ভরে যায় আত্বীয় সজনে। মেলায় আসা দর্শনার্থীরা মেলার পরিবেশ ও আইন শৃংখলার প্রতি সন্তষ্ট থাকলেও আয়োজকদের কাছে তাদের দাবি মেলাটি যেন ২ থেকে ৩ দিন বাড়িয়ে দেয়। এ মেলায় হিন্দু ধর্মালম্বী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন আসেন এখানে কেনাকাটার জন্য।

এ মেলায় নাগোর দোলা, পুতুল নাচ, শাখা সিদুর, মিষ্টি, তালপাখা, শিশু খেলনা, প্রসাধনীসহ ঘর গৃহস্থলীর সব কিছুই এখানে কিনতে পাওয়া যায় । এ পূণ্য স্নান উপলক্ষে ঋৃষিঘাটের প্রায় ১ বর্গ কি.মি. তীর্থ স্থানটি বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ ও পূর্ণার্থী মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্নান সম্পন্ন করার পর কেন্দ্রীয় মন্দিরে গঙ্গা পূঁজা ও ষষ্ঠী পূঁজা অনুষ্ঠিত হবার পর প্রসাদ বিতরণ হয়। দুই দিন ব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী মেলার বিচ্ছৃংখলা এড়াতে পুলিশ, গ্রাম্য পুলিশ ও আনসার রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য