ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ ঈদের আনান্দ স্বজনদের সাথে কাটাতে যারা কর্মক্ষেত্র ছেড়ে শত বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে বাড়ীতে এসেছিল, ঈদের আনান্দ শেষ হতে-না হতেই কর্মক্ষেত্রে ফিরতে একই রকমের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, রেলের টিকিট সবেই চলে গেছে কালোবাজারীদের হাতে। টিকিট কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও, রেল স্টেশনের হোটেল-চা-পান-সিগারেটের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে রেলের টিকিট। ঢাকা যাওয়া (চেয়ার ননএসি) ৪২৫ টাকা মূল্যর টিকিট কালোবাজারিতে (পান-সিগারেটের দোকানে) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকায়। (এসি চেয়ার) ৮শ টাকা মূল্যর টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

অভিযোগ উঠেছে টিকিট কাউন্টারের বুকিং মাস্টারদের সহযোগীতায় এই সকল কালোবাজারীদের হাতে রেলের টিকিট চলে গেছে, তবে স্টেশন এলাকার কয়েকজন বাসীন্দা বলেন স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় দির্ঘদিন থেকে রেল স্টেশনে টিকিট কালোবাজারী হচ্ছে।

রেলযাত্রী ইউপি সচিব গোলাম কিবরিয়া বলেন, তিনি তার প্রয়োজনে ঢাকা যাওয়ার জন্য কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে স্থানীয় এক পান দোকান্দারের নিকট ৪২৫ টাকার টিকিট ৯শ টাকায় খরিদ করেছেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মানিক স্থানীয় যুবক রুমেলের মাধ্যমে স্টেশন পাড়ার বাসীন্দা মমু নামে এক যুবকের নিকট থেকে ঢাকা যাওয়া ৪২৫ টাকা মূল্যর একটি টিকিট ৯শ টাকায় খরিদ করেছেন, তবে টিকিটের মুল্যর টাকা বিকাশের মাধ্যমে টিকিট মাস্টার (রেলওয়ে বুকিংক্লার) এনায়েতকে দিয়েছেন। রেলযাত্রী বড়পুকুরিয়া এলাকার সোহান মিয়া বলেন স্টেশন এলকার হাছেন নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ঢঅকা যাওয়া ৪২৫ টাকা মূল্যর দুটি টিকিট ২ হাজার ১শ টাকায় খরিদ করেছেন, রাসেল নামে এক পান দোকান্দারের নিকট একটি করে টিকিট এক হাজার টাকা দরে খরিদ করেছেন বলে কয়েকজন রেলযাত্রী বলেন।

এদিকে রেলের টিকিট সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন রেলযাত্রী বলেন, তারা রেলের টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেন, টিকিট কাউন্টারে সকাল থেকে সেখানকার স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী ও পান সিগারেটের দোকান্দার তাদের লোকজন নিয়ে টিকিট কাউন্টারে লাইন হয়ে দাঁড়ীয়ে আছে, তারা লাইনে দাড়ীয়ে টিকিট সংগ্রহ করে সেই টিকিট কালোবাজারীতে বিক্রি করে আসচ্ছে।

রেলওয়ে স্টেশন সুত্রে জানা গেছে ঢাকাগামী একটি ট্রেনে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন বরাদ্ধ থাকে, সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ৩০-৩৫ জন লাইনে দাড়ায়, এতে বাহীর থেকে আসা প্রকৃত রেলযাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে বুকিং মাস্টার সোহাগ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা এই ঘটনা বাধা দিতে গেলে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদেরকে লাঞ্চিত করতে আসে।

এদিকে একই অবস্থা বাস কাউন্টার গুলোতেও, ঈদ উপলক্ষে মালিকের বেধে দেয়া ৬৫০ টাকার একটি টিকিট ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মুল্য দিয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা, টিকিট না পেয়ে অনেকে বাস ও ট্রেনের ছাঁদে ঠাঁই নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেখা গেছে।

শত বিড়ম্বনা নিয়ে যারা বাড়ীতে আসছিল স্বজনদের সাথে ঈদ করতে, তারা একই বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে ফিরছে কর্মক্ষেত্রে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য