বিশ্বের অন্যতম বেসরকারি দাতব্য সংস্থা মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার্স(এমএসএফ) বা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের কর্মীরা আফ্রিকায় কাজ করার সময় স্থানীয় পতিতাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বিবিসি’র ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে এসব কথা জানিয়েছেন।

এমএসএফের সাবেক নারী কর্মীরা জানান, ব্যাপক হারে স্থানীয় পতিতাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো দাতব্য সংস্থাটির কর্মীরা। এমনকি একজন তার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ওষুধের বিনিময়েও স্থানীয় মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে এমএসএফ কর্মীদের।

এমএসএফ জানিয়েছে, তারা কোন ধরণের নির্যাতন, হয়রানি বা অপব্যবহার সহ্য করে না। এমএসএফের কঠোর নিয়ম নীতি অনুসারে, এর কর্মীদের জন্য পতিতাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা নিষিদ্ধ।

নারীরা জানিয়েছেন, মূলত এধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতো সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কর্মীরা। চিকিৎসক বা সেবিকারা নয়।

এমএসএফের সাবেক এক নারী কর্মী বলেন, কেনিয়ায় কাজ করার সময় তিনি তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এমএসএফ কর্মীদের বাসভবনে মেয়ে নিয়ে আসতে দেখতেন। তিনি বলেন, মেয়েগুলো ছিল খুবই অল্প বয়স্ক। গুঞ্জন ছিল যে তারা পতিতা। তিনি জানান, এটা স্পষ্টই ছিল যে, মেয়েগুলোকে কেবল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই নিয়ে যাওয়া হতো।

তিনি আরো বলেন, ওই বাসভবনে বহুদিন ধরে অবস্থান করছে, আমার এমন সহকর্মীদের মতে, নিয়মিতই সেখানে মেয়ে নিয়ে যেতেন ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ওই নারী জানান, এই বিষয়ে তাদের কিছু করার ছিল না। কেননা, ওই কর্মকর্তা তাদের চেয়ে অনেক জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার করতো বলে মনে হয়েছে আমার। তারা সংস্থাটিতে বহুদিন ধরে কাজ করছে। আর আফ্রিকায় তাদের ‘পশ্চিমা ত্রাণ-কর্মী’ পরিচয়ের সুবিধা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সেখানে প্রায়ই অনেক বয়স্ক, মধ্য-বয়সী পুরুষদের স্থানীয় কম বয়সী তরুণীদের সঙ্গে পার্টি করতে দেখা যেত। এটা ছিল যৌনতাসূচক।
মধ্য-আফ্রিকায় এইচআইভি রোগীদের নিয়ে কাজ করা পর এক নারী কর্মী জানান, সেখানেও ব্যাপক হারে স্থানীয় যৌনকর্মীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো সংস্থাটির কর্মীরা।

তিনি বলেন, সেখানে একজন বয়স্ক সহকর্মী ছিলেন যিনি এমএসএফ কর্মীদের বাসভবনে একজন স্থানীয় নারীকে নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন। ওই বয়স্ক কর্মী দাবি করতেন যে ওই নারী হচ্ছে তার প্রেমিকা। কিন্তু এটা দেখেই বোঝা যেত যে, তিনি আসলে একজন পতিতা। তারা রাতের পর রাত একসঙ্গে কাটাতো। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটতো। ব্যাপকহারে ও অমার্জিতভাবে।

নারী কর্মী আরো বলেন, আমি আমার এক সহকর্মীকে এক স্থানীয় যৌন কর্মীর সঙ্গে টয়লেটে যেতে দেখেছি। এই সহকর্মী অবশ্য বয়সে বেশ ছোট ছিল। আমি ওই যৌন কর্মীকে চিনতাম। সে পাশেই একটি ‘বারে’ কাজ করতো। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে শুনলাম যে, তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে ও আমার সহকর্মী তাকে বিনিময়ে অর্থ দিয়েছে।

ওই নারী কর্মী নিজেও এমএসএফ কর্মীদের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান।

তৃতীয় এক এমএসএফ নারী কর্মী জানান, তার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাকে বলেছেন যে, লাইবেরিয়ায় ওষুধের বিনিময়ে স্থানীয় মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার সম্ভাবনা আছে।

ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ওহ, লাইবেরিয়ার মেয়েদের সঙ্গে ওষুধের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন খুবই সহজ।

ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে, অনেক অল্পবয়সী তরুণীরা ইবোলা ভাইরাস সংকটে তাদের পিতামাতা হারিয়েছে। তারা ওষুধের জন্য যেকোনো ধরণের যৌন কাজ করতে রাজি।

বিবিসি স্বতন্ত্রভাবে, এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এমএসএফ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত করার জন্য তাদের আরো তথ্য প্রয়োজন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য