ঝাংলি ভরে তরতর করে বেড়ে উঠছিল লাউয়ের ঝাক। পুরো ক্ষেজুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছিল ছোট্ট ছোট্ট লাউগুলি। আর দশ-বারোদিন পর বাজারে লাউ বিক্রি করার স্বপ্ন দেখছিল কৃষক জয়ন্ত কুমার সরকার (৪২)।

কিন্তু এক রাতেই দুবৃত্তরা তার স্বপ্ন চূরমার করে আহাজারীতে পরিণত করল। এক বিঘা জমিতে তিনশত লাউ গাছের গোড়া কেটে দিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে দশ/বারোজনের পরিবারটিকে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষও। তারা ক্ষতিপুরণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

সারজমিন বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার সবজির আঁধার হিসেবে খ্যাত রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামরতন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বিবর্ণ ক্ষেতটি। এখনো ঝাংলিতে ঝুলছে অপরিপক্ক লাউ। পাতাগুলো কালচে আকার ধারণ করেছে। কিছু কাটা লাউ মাটিতে পড়ে আছে। রস না পেয়ে শুকিয়ে গেছে বেশ কয়েকটা।

কৃষক জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, তিনবছর পূর্বে প্রতিবেশি আইয়ুব আলী (৫৫) এর কাছ থেকে এক বিঘা জমি বর্গা নেন। সেই জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে চলছিল দশ/বারো জনের অভাবী সংসারটি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঋণ করে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৩শত লাউয়ের গাছ লাগান তিনি। যা থেকে প্রায় তিন হাজার লাউ ধরেছে। এসব লাউ বিক্রি করে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা আয় করে ঋণ শোধ ছাড়াও সংসার পরিচালনা করতে পারতেন তিনি।

কিন্তু লাউ ক্ষেতে গরু-ছাগল ঢুকে ক্ষেত নষ্ট করা নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে বাক-বিতন্ডার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতের আঁধারে তার জমির সব লাউ গাছের গোড়া কেটে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এখন লাউ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা কৃষক জয়ন্ত কুমারের।

সামান্য গরু-ছাগলের পাতা খাওয়া নিয়ে একজন কৃষকের যে ক্ষতি করা হয়েছে তা অপূরণীয়। এলাকাবাসী ক্ষতিপুরণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

জয়ন্ত কুমারের পিতা যোগেষ চন্দ্র সরকার ও মা অঞ্জলী রানী জানান, এই জমির আয়ের উপর পরিবারটি জীবিকা নির্বাহ করে। এই লাউয়ের তিন ভাগের মধ্যে এক ভাগ জমির মালিককে দেওয়ার কথা। এখন আমাদের পরিবার কিভাবে চলবে। আমরা তো পথে বসে গেলাম।

জমির মালিক আইয়ুব আলী জানান, জয়ন্তর প্রতিবেশী বাদশা পাটোয়ারী, তার ভাতিজা আসিফ এবং তার ভাই বাবলু পাটোয়ারীর ছাগল জমিতে প্রবেশ করা নিয়ে উভয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে তারা শাষিয়েও যায়। এরপর রাতেই সব গাছ কেটে ফেলা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বাদশ পাটোয়ারী ও বাবলু মন্ডল সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান জানান, জমিটিতে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। সম্ভাব্য ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য