ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে রংপুর মহানগরীর দর্জিপাড়ায়। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেলাইয়ের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েই চলছে। ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা পছন্দের কাপড় কিনে মনের মতো পোশাক সেলাই করতে এখন ছুটছেন দর্জিপাড়ায়।

আর দুয়েকদিন দেরি হলেই হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে দর্জি দোকানের দরজা। তাই সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই নিজের ঈদের পোশাকটি হাতে পাওয়া নিশ্চিত করতে চান সবাই। আর সবার এই চাহিদা পূরণের জন্য দর্জিপাড়ায় অনেককেই কাটাতে হচ্ছে নির্ঘুম রাত।

ক্রেতার পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী কাপড় কাটা আর সেগুলো সেলাইয়ে রাতভর চলছে কাঁচি আর সেলাই মেশিনের আওয়াজ। ঈদের বাকি আর মাত্র ৫ দিন। তাই বলতে গেলে শেষ মুহূর্তে এসে দম ফেলার ফুসরতটুকুও পাচ্ছেন না রংপুরের দর্জিপাড়ার কারিগররা।

সরেজমিনে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড়, চাউল আমোদ, সিটি পাজা, মতি পাজা, পায়রা চত্বর, রাজা রামোহন মার্কেট, সুপার মার্কেট,সহ মাহিগঞ্জ, মর্ডাণ, ধাপ ও সাতমাথার বিভিন্ন শপিংমলের দর্জির দোকানে ঘুরে কথা হয় কারিগর ও ক্রেতাদের সাথে।

তারা বলছেন, অনেকেই আছেন যারা দোকানের তৈরি পোশাক বা রেডিমেড ড্রেস পছন্দ করেন না। এ ধরনের পোশাকের ফিটিং মনমতো হয় না অনেকের। মূলত তাদেরই গন্তব্য দর্জিপাড়ায়। তাছাড়া অন্যদের সঙ্গে যেন নিজের ঈদের পোশাকটি না মিলে যায়, সে কারণেও অনেকে দর্জির কাছে ছুটে আসেন নিজের পছন্দের ডিজাইনটি নিয়ে।

নগরীর সিটি পাজার শাহিন দর্জি দোকানের মালিক বলেন, ‘বড় ভাই আর আমি মিলে দু’টি দোকান চালাই। এ বছর আমরা ক্যাটালগ অনুযায়ী কাপড় কেটে কিশোরী-তরুণীদের পোশাক বানানোতে ব্যস্ত সময় পার করছি।’ একেকটি থ্রি পিস ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাসাককালি ৬৫০ টাকা ও ধরন অনুযায়ী লেহেঙ্গা বানাতে ১২শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।

শাহিন টেইলার্সে পছন্দের থ্রি পিস বানাতে এসেছিলেন বীনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘শপিং মলে পছন্দের থ্রি পিসটি পেলেও রঙ ও আকারে মিলছে না। আবার রঙ ও সাইজে মিললেও দাম বা গুণগত মানে মিলছে না। তাই রেডিমেড ড্রেস বাদ দিয়ে গজ কাপড় কিনে দর্জির কাছে চলে এলাম।’

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে পছন্দের রঙের কাপড় ও ডিজাইন অনুযায়ী পোশাক বানাতে দর্জি পাড়ায় ভিড় করছে তরুণরাও। আর তাদের কথা মাথায় রেখেও ডিজাইন অনুযায়ী পোশাক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিরা।

কয়েকজন দর্জি কারিগর জানান, এ বছর শার্ট ৩৮০ টাকা, প্যান্ট ৪৮০ টাকা, পাঞ্জাবি-পায়জামা ডিজাইন অনুযায়ী সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরি রাখা হচ্ছে।

দর্জিপাড়ার ব্যস্ততা নিয়ে কারিগররা বলেন, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মৌসুমী কারিগর সংগ্রহ করেন দর্জি মাস্টাররা। এ বছর ১০ রমজান থেকে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। এখন চলছে সর্বোচ্চ ব্যস্ততার সময়। এখন আর নতুন করে কোনো আর্ডার নেয়া হচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য