ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পৃথক দুটি হামলায় ২ ভারতীয় পুলিশ নিহত ও আধাসামরিক বাহিনীর ১০ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার ভোরে পুলওয়ামা জেলার আদালত চত্বরে পুলিশের চৌকিতে চালানো হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত ও একজন আহত হন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিহত দুই পুলিশ সদস্য গুলাম রসুল ও গুলাম হাসানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে পালিয়ে যায়।

“ভোরের দিকে পুলওয়ামা জেলার আদালত চত্বরের পাহারায় নিয়োজিত পুলিশ চৌকিতে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। দুই পুলিশ সদস্য সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়া শুরু করলেও গোলাগুলির এক পর্যায়ে তারা নিহত হন। পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে,” বলেছেন জম্মু ও কাশ্মির পুলিশের এক মুখপাত্র।

প্রায় একই সময়ে রাজ্যটির অনন্তনাগ জেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো আরেকটি হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী সিপিআরএফের অন্তত ১০ জওয়ান আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, সিআরপিএফের একটি চৌকি লক্ষ্য করে ছোড়া গ্রেনেডে ১০ জন ‘সামান্য আহত হয়েছেন’।

“অনন্তনাগের জাঙ্গাল মান্ডি এলাকায় সিআরপিএফের সদস্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা একটি গ্রেনেড ছোড়ে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে,” বলেছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।

মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র হিসেবে পরিচিত রোজার মাসে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির আলোকে কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তবে সরকারি পক্ষের একতরফা অস্ত্রবিরতি সত্বেও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা থেকে নেই।

সরকারের প্রস্তাবিত রমজানের যুদ্ধবিরতির প্রথম ২০ দিনেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অন্তত ৪৪টি হামলা চালিয়েছে, বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্র চারটি অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

৪৪টি হামলার মধ্যে ২০টিতেই সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড ছুড়েছিল, বাকিগুলো ছিল গুলিবর্ষণ করেছিল। এসব হামলায় চার নিরাপত্তা রক্ষী নিহত ও অন্তত ৩৩ জন আহত হন।

জম্মু ও কাশ্মির উপত্যাকায় দুই শতাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে ধারণা ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য