আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির দলীয় কোন্দল আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য এম জি মোস্তফাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার কিছুদিন পর এবার দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুকে দল থেকে অব্যাহিত দেয়া হয়েছে। ফলে এ নিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ বলে খ্যাত লালমনিরহাটে দলের অবস্থা হ-য-ব-র-ল হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পার্টির দলীয় সুত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টি’র সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গত শনিবার অধ্যক্ষ মিঠুকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলেও তা প্রকাশ পায় বৃহস্পতিবার রাতে। অব্যাহতি দেয়ার খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর পরেই লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ওই অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পার্টিতে অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুর আর প্রয়োজন নেই। তাই দলীয় গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক তাকে দলের সকল পদ-পদবী থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। এর আগে হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও হাতীবান্ধা উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এম জি মোস্তফাকেও দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে যোগদান করবেন এমন প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ফলে লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির দলের অবস্থা বর্তমানে হ-য-ব-র-ল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠু এক সময় বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন যুবদলের জেলা সভাপতি ছিলেন। ওই সময় জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সাথে অধ্যক্ষ মিঠুর রাজনৈতিক দ্বন্দ হওয়ায় বেশ কিছু দিন রাজনীতিতে নিক্রিয় ছিলেন জনপ্রিয় এ যুবনেতা।

পরে ২০১৩ সাথে ১৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করে জেলা জাতীয় পার্টিকে গতিশীল করতে চেষ্টা করেন। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষন করলেই তার সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয় ওই আসনের সাবেক এমপি, এরশাদের ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের। এ বিরোধের জের ধরে গত শনিবার অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুকে জাতীয় পার্টি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠু বলেন, দলের কো-চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদেরের লালমনিরহাটের দলীয় নেতা-কর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। তারপরও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চায়। আমিও নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। আমি তার প্রার্থীতার বিরোধীতা করায় আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদেরের নেতৃত্বকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ করে অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠু আরো বলেন, জি এম কাদেরের সাথে আর রাজনীতি নয়। আমার সাথে লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষ আছেন। আমি তাদেরকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাবো।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব) খালেদ আখতার বলেন, আমি শুনেছি কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টি’র সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য