স্পেনের নতুন সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তার মন্ত্রিসভার ১৭টি পদের ১১টিতেই নারীদের মনোনয়ন দিয়েছেন।

পুরুষ অনুপাতে নারীর এ হার ইউরোপের সরকারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নিজস্ব রীতির ‘নারীবাদী’ খ্যাত সানচেজের এই অবস্থান আগের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত সপ্তাহে ক্ষমতাচ্যুত রাখয়ের মন্ত্রিসভায় পুরুষদের আধিক্য ছিল।

নতুন সরকারে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ব্যয়সঙ্কোচন ও শিক্ষার মতো গুরুদায়িত্ব সামলানোর ভার দেওয়া হয়েছে নারীদের।

সাবেক নভোচারী পেদ্রো দুকুকে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়।

দলের সহকর্মী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরের অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এ মন্ত্রিসভাকে ‘নারীবাদী মন্ত্রিসভা’ হিসেবে অভিহিত করছে স্পেনীয় গণমাধ্যম।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সানচেজ বলেছেন, “নতুন সরকার এমন ব্যক্তিদের নিয়ে হচ্ছে যারা আধুনিক ও ইউরোপপন্থি প্রগতিশীল সমাজ সম্পর্কে সমদৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন।”

ইউরোপকে ‘নতুন স্বদেশ’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দেন সমাজতন্ত্রী এ প্রধানমন্ত্রী। নারীবাদী আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে নতুন মন্ত্রিসভাকে এর ‘বিশ্বস্ত প্রতিফলন’ হিসেবেও দাবি করেছেন তিনি।

বেতন বৈষম্য ও লিঙ্গ সহিংসতার বিরুদ্ধে ৮ মার্চ স্পেনজুড়ে হওয়া ‘নারীবাদী ধর্মঘটে’ প্রায় ৫০ লক্ষ নারী অংশ নিয়েছিলেন বলে ধারণা।

‘সমাজ পরিবর্তনের’ ক্ষেত্রে ওই দিনের গুরুত্বও তুলে ধরেন সানচেজ; বলেন, ৮ মার্চ স্পেনের সমাজকে ‘আগে ও পরে’তে বিভক্ত করেছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন সমাজতন্ত্রী কারমেন কালভো। পাশাপাশি সমতা পুনর্বহাল মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বও নিতে যাচ্ছেন তিনি।

আন্দালুসিয়ার সাবেক কাউন্সিলর মারিয়া হেসুস মোনতেরো অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন । ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশনের বাজেট বিষয়ক প্রধান নাদিয়া কালভিনো পাচ্ছেন ব্যয়সঙ্কোচের দায়িত্ব।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞ কৌঁসুলি ডোলোরস দেলগাদোর হাতে যাচ্ছে বিচার মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মার্গারিতা রবলেসকে।

শিক্ষায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সমাজতন্ত্রী ইসাবেল সেলা হচ্ছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেল পাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন স্পেনিশ হাই কোর্টের সাবেক বিচারক ও প্রকাশ্যে সমকামিতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ফার্নান্দো গ্রান্দে মারলাস্কা।

সানচেজকে নিয়ে গঠিত ১৮ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারীর শতকরা অবস্থান ৬১ দশমিক ১ শতাংশ। দেশটির ইতিহাসে আর কখনোই কোনো মন্ত্রিসভায় নারীদের এমন উপস্থিতি ছিল না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

স্পেনের বাইরে ফ্রান্স, সুইডেন ও কানাডাসহ ইউরোপের গুটিকয়েক দেশের মন্ত্রিসভায় নারীর অবস্থান ৫০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি।

২০১১ সালে ক্ষমতায় বসা রাখয় গত সপ্তাহে আস্থা ভোটে পরাজিত হলে সানচেজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ খুলে যায়। পার্লামেন্টের মাত্র এক চতুর্থাংশ আসন দখলে থাকলেও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে আরও ছয়টি দলের সমর্থন নিয়ে রক্ষণশীল পপুলার পার্টির নেতা রাখয়কে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেয় সানচেজের সোশালিস্ট পার্টি।

ক্ষমতা হারানোর পর বুধবার রাখয় জানিয়েছেন, রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

“রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করা ছাড়াও জীবনে আরও অনেক কিছুই করার আছে। একটি চমৎকার রাজনৈতিক জীবন কাটিয়েছি আমি। মনে হয় না, এটিকে আর দীর্ঘ করার কোনো প্রয়োজন আছে,” বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য