প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামি ধর্মীয় নেতাদের শরণাপন্ন হয়ে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। দেশটির বৃহত্তর দুই ইসলামি সংগঠন নাদলাতুল উলামা (এনইউ) ও মোহাম্মদিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে দেশটি। এ দুই ইসলামি সংগঠনের মিলিতভাবে ১০ কোটিরও বেশি অনুসারী রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র দূষণকারী দেশগুলোর একটি হলো ইন্দোনেশিয়া। বৈশ্বিকভাবে সামুদ্রিক বর্জ্যের জন্য দায়ী দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরই দেশটির স্থান। ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটি বর্তমানে বছরে ৯৮০ কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করে। ব্যবহার শেষে এগুলোর বেশিরভাগই সাগর কিংবা নদীতে জমা হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটির জনগণকে সচেতন করে তুলতে এনইউ ও মোহাম্মদিয়ার সহায়তা নেওয়া হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ধর্মীয় নেতারা দেশজুড়ে ধর্মীয় সমাবেশে যাবেন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর গুরুত্ব বর্ণনা করবেন। কিভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করে সেটিরও ব্যাখ্যা দেবেন তারা।

এছাড়া ধর্মীয় নেতারা বাঁশ ও বেতের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি পুরনো ধারার ব্যাগ ব্যবহার করতে ভোক্তাদের উৎসাহিত করবেন।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মহাসচিব রোসা ভিভিয়েন রত্নাবতী বলেন, সরকার বিশ্বাস করে এ সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ঘোষণাটির ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব থাকবে। তিনি বলেন, ‘এগুলো ইন্দোনেশিয়ার দুই বৃহত্তর ইসলামি প্রতিষ্ঠান। কাঠামোগতভাবে তারা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেকারণে প্লাস্টিক ব্যাগের বর্জ্য কমাতে নেওয়া এ উদ্যোগটি তাদের সব সমর্থক ও অনুসারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে। তারা ইন্দোনেশিয়াজুড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।’

এনইউ’র দুর্যোগ মোকাবিলা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থার সদস্য ফিতরি আরিয়ানি বলেন, ‘অতীতে আমরা অনেক বেশি পরিবেশ-বান্ধব বিষয়গুলো চর্চা করতাম এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যাগ ব্যবহার করতাম। আমরা চাই জনগণ আবার ওই পুরনো ধারায় ফিরে যাক, যখন লোকজন বাইরে যেতো এবং এতো বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার করতো না।’

বাতিল প্লাস্টিক থেকে কিভাবে ‘ইকো ব্রিকস’ তৈরি করতে হয় তা শিক্ষার্থীদের শেখানোসহ বেশ কিছু পরিবেশগত সচেতনতা এবং পুনরায় ব্যবহার (রিসাইকেলিং) কর্মসূচি পরিচালনা করে এনইউ। পূর্ব জাভায় সংগঠনটির ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলগুলোতে গত দুই বছর ধরে তা শেখানো হচ্ছে। এখন সংগঠনের বিস্তৃত নেটওয়ার্কজুড়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

গত মাসে এনইউ ‘নাইজি সাম্পাহ’ কিংবা ‘বর্জ্য সংক্রান্ত ধর্মোপদেশ’ দেওয়া শুরু করেছিল। ধর্মোপদেশগুলো মাসে একবার প্রচারিত হবে এবং ইসলামি নীতিমালা ব্যবহার করে পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য