গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে এ পর্যন্ত ৭৫ জন নিহত ও অন্তত ১৯২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

রোববার আগ্নেয়গিরিটির ওই বিস্ফোরণে পর্বতটির ঢালের গ্রামগুলো আগ্নেয় ছাই ও কাদায় চাপা পড়ে। বিস্ফোরণে আগ্নেয় ছাই আকাশে ১০ কিলোমিটার উপর পর্যন্ত উঠে যায়।

অগ্ন্যুৎপাতে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিন হাজার জনকে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ফের একটি অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিটির দক্ষিণ পাশ দিয়ে নতুন করে ‍উত্তপ্ত গ্যাস ও গলিত শিলার স্রোত নেমে আসে। এতে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।

নতুন এই অগ্ন্যুৎপাত অনেকেই বিস্মিত করে, কারণ আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা রোববারের অগ্ন্যুৎপাতের পর নিকট অভিষ্যতে আর অগ্ন্যুৎপাত হবে না বলে জানিয়েছিলেন।

গুয়াতেমালার ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব সিসমোলজির প্রধান এড্ডি সানচেজের ধারণা ছিল ‘পরবর্তী কয়েকদিনে কোনো অগ্ন্যুৎপাত হবে না’।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (কনরেড) প্রধান সের্হিও কাবানিয়াস জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটির আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলোর ১৯২ জন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।

রোববারের অগ্ন্যুৎপাতের আগে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কাবানিয়াস জানান, স্থানীয়দের জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আগ্নেয়গিরি থেকে দ্রুত ‘পাইরোক্ল্যাসটিক ফ্লো’ নেমে আসায় তারা সেগুলো প্রয়োগ করার সময়ও পাননি।

দ্রুত ধেয়ে আসা উত্তপ্ত গ্যাস ও আগ্নেয় পদার্থের স্রোত, যা ‘পাইরোক্ল্যাসটিক ফ্লো’ নামে পরিচিত, আগ্নেয়গিরির ঢাল বেয়ে নেমে এসে এল রোদেও ও সান মিগেল লোস লদেসসহ বিভিন্ন এলাকা গ্রাস করে।

পাইরোক্ল্যাসটিক ফ্লো আগ্নেয় পর্বতের আশপাশে বসবাস করা লোকজনের জন্য খুব বিপজ্জনক। ফুয়োগো আগ্নেয়গিরি থেকেও এমন ফ্লো নেমে এসেছে। এর গতি প্রায় যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের কাছাকাছি, ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৭০০ কিলোমিটার।

এর পাশাপাশি পাইরোক্ল্যাসটিক ফ্লোতে থাকা গ্যাস ও গলিত শিলা ২০০ থেকে ৭০০ সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত হতে পারে। কেউ যদি সরাসরি এর পথে পড়ে যায় তবে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতেও পাইরোক্ল্যাসটিকে ফ্লো নেমে এসেছিল, যার নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছিল রোমান শহর পম্পেই ও হারকুলেনিয়াম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য