ভারতের উত্তর প্রদেশের মেগা ফুড পার্ক বানানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছে যোগগুরু রামদেবের কোম্পানি পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ।

তাদের এ হুমকিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে এনডিটিভি।

ফুড পার্ক নির্মাণে পূর্ণাঙ্গ অনুমতি পেতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় যেসব নথিপত্র জমা দেওয়া লাগে আদিত্যনাথের রাজ্য সরকার সেগুলো আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের।

এই অভিযোগে উত্তর প্রদেশের মেগা এই প্রকল্প থেকে কোম্পানিকে সরিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন পতঞ্জলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আচার্য বালকৃষ্ণ।

“এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি না আমরা। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পরও আমরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাই নি। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রকল্পটি অন্য কোথাও স্থানান্তরের,” বলেছেন বালকৃষ্ণ।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ, মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক হলেও রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই প্রকল্পটির কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না, বার্তা সংস্থা এএনআইকে করা অভিযোগে এমনটাই বলেছেন তিনি।

লাখো কৃষকের জীবনমানের উন্নতি এবং অসংখ্য মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে উত্তর প্রদেশে ওই ফুড পার্ক নির্মাণে তার কোম্পানি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করার অনেক যন্ত্রপাতি কেনার অর্ডার দিয়ে দিয়েছিল বলেও জানান বালকৃষ্ণ।

দিল্লির কাছে গৌতম বুদ্ধ নগরে ওই ফুড ও হারবাল পার্ক নির্মাণে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মন্ত্রণালয়। পূর্ণাঙ্গ অনুমতি পেতে জমিজমা ও ব্যাংক ঋণের কাগজপত্রসহ আরও চার পাঁচটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

“শর্ত পূরণে পতঞ্জলিকে এক মাস বাড়তি সময় দিয়েছি আমরা। এর মধ্যেই যদি তারা তা পূরণ করতে না পারে, তাহলে প্রকল্পটি বাতিল করা ছাড়া উপায় থাকবে না। অন্য অনেক প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমরা অনেক আগেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগের প্রধান জে.পি. মিনা।

তার তথ্যমতে, শর্ত পূরণে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের হাতে চলতি মাসের শেষ পর্যন্তই সময় আছে।

উত্তর প্রদেশ থেকে ফুড পার্ক সরিয়ে নেওয়ার এ হুমকি রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের জন্য তুমুল বিব্রতকর হবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

উত্তর প্রদেশ থেকে ফুড পার্ক সরিয়ে আনা বিষয়ে ‘পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা রামদেবের কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

রামদেব ও আচার্য বালকৃষ্ণ ভারতীয় ভেষজ পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ‘পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ’ প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু পাবলিক লিমিটেড এ কোম্পানিতে কোনো শেয়ার নেই রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী যোগগুরু রামদেবের।

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ‘পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ’ খাদ্য পণ্য, রেস্তোরাঁ ও অ্যাপারেলেও ব্যবসা বিস্তৃত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানি পতঞ্জলির ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক আচার্য বালকৃষ্ণ ভারতের ১৯তম ও বিশ্বের ২৭৪তম শীর্ষ ধনী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৩০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য