রংপুর মহানগরীর ধাপের সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ভুল অপারেশনের অভিযোগে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অপারেশনকারী চিকিৎক প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের নাক কান ও গলা রোগ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. আব্দুল হাইকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর সকল বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগোনোসিস সেন্টারে অনির্দিস্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় রোগি ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

রংপুর চিকিৎসক সমাজের ব্যানারে রোববার দুপুর ২ টা থেকৈ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর সকল বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জরুরী অপারেশন ছাড়া সকল ধরনের সেবা দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন চিকিৎসকরা। এতে রোগিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা চিকিৎসকদের কোন প্রেসকিক্রপশন পাচ্ছেন না। রোগি ও স্বজনরা এ ঘটনার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

রংপুর চিকিৎসক সমাজের আহবায়ক ডা. নুররুন্নবী লাইজু জানান, সেন্ট্রাল ক্লিনিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি এখনও তদন্ত করা হয় নি। ভুল অপারেশন হয়েছে কিনা তাও প্রমান হয় নি। কিন্তু পুলিশ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রংপুরের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসককে এভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। এরই প্রতিবাদে দুপুর দুইটা থেকে আমরা রংপুরের চিকিৎসকরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সকল বেসরকারী নার্সিং হোম, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগোনোসিস সেন্টারে চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছি। তবে সন্ধা ৮ টার পর জরুরী অপারেশন ছাড়া আমরা কাউকেই কোন চিকিৎসা সেবা দিবো না।

রংপুর বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগোনোসিস সমিতির নেতা গুড হেলথ হাসপাতালের মালিক ডা. মামুনুর রশিদ মামুন জানান, সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ওই শিশুটি এ্যানেসথেসিয়া দেয়ার পরই মারা গেছে। তাকে অপারেশন করাই হয় নি। অথচ ডা. আব্দুল হাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যা চিকিৎসকদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন প্রশাসন যত দ্রুত তাকে ছেড়ে দিবে আমরা তত দ্রুত রোগিরে সেবায় ফিরে যাবো। এ ব্যপারে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, সেন্ট্রাল ক্লিনিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে ডা. আব্দুল হাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত: গত বুধবার গাইবান্ধা জেলার খামারবাড়ি এলাকার রেজাকুল হকের স্ত্রী লাকি বেগম ও তার ৬ বছরের পুত্র সিয়াম গলায় টনসিল রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মহানগরীর সেন্টাল ক্লিনিকে আসেন। সেখানে নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আব্দুল হাইকে দেখান তারা। এসময় দুইজনের অপারেশন বাবাদ ২০ হাজার টাকা চুক্তি হয়।

শনিবার দুপুরের টাকাসহ লাকী বেগম তার পুত্র সিয়ামকে নিয়ে সেন্টাল ক্লিনিকে অপারেশনের জন্য আসেন। বিকেলে অপারেশন করার সময় অপারেশন থিয়েটারেই মারা সিয়াম। ঘটনাটি জানাজানি হলে লোকজন ক্লিনিক ঘেরাও করে ভাংচুর চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. আব্দুল হাইকে গ্রেফতার করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য