আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: মাদক, বাল্যবিয়েসহ সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ দমনে সচেতনতা বাড়াতে বাইসাইকেল চালিয়ে ৭৬ দিনে সারাদেশ ঘুরে এসেছে মধু মিলন মোহন্ত ও রাকিবুল ইসলাম নামে লালমনিরহাটের দুই কিশোর স্কাউট সদস্য।

দেশ ঘুরে রোববার (৩ জুন) সকালে তারা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। তাদের পুরো দেশ ঘোরা সম্পন্ন হয় ২৬ মে। এর আগে ১১ মার্চ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লালমনিরহাটের আদিতমারী জিএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ থেকে যাত্রা শুরু করে তারা।

মধু মিলন আদিতমারী উপজেলা সদরের বিনয় কুমার মোহন্তের ছেলে। রাকিবুল ইসলাম একই উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তারা দু’জনে এবার আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পাশ করেছে।

মধু মিলন জানান, জনসচেতনতার অভাবে সমাজে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক ও বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক অপরাধ। একটু সচেতনতা বাড়লে অনেকাংশে কমে আসবে এসব অপরাধ। তাদের প্রচারে একটি লোকও যদি সচেতন হলে অনেক মানুষ এর সুফল পাবে।

এই অভিপ্রায়ে দুই বন্ধু এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে দেশ ঘুরতে। পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ১১ মার্চ যাত্রা শুরু করে তারা। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান।

যাত্রা পথে দেখা অনেকের সঙ্গেই কথা বলে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে তারা।

এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। শহর থেকে রাজধানী। বাইসাইকেলে পুরো দেশ ঘুরে ২৬ মে ৭৬তম দিনে ৬৪ নম্বর জেলা হিসেবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে তাদের যাত্রা শেষ হয়। এরপর তারা ফিরে যায় ঢাকায়।

সেখানে শনিবার (২ জুন) ঢাকাস্থ লালমনিরহাট ছাত্রকল্যাণ পরিষদ তাদের প্রথম সংবর্ধনা দেয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হামিদুল হক এবং রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান। এরপর ৮৬তম দিনে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে তারা।

রাকিবুল জানান, মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই-জীবনের ঝুঁকি কমাই এবং বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি বন্ধ করি, সুষ্ঠু নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠি- এ স্লোগানে দেশ পরিভ্রমণ করেছে তারা। সারা দেশের হাজারো মানুষ তাদের উৎসাহ দিয়েছেন।

৬০ হাজার সাতশ’ টাকা খরচ করে দুই বন্ধু এ সামাজিক আন্দোলনে নিজেদের সামিল করেছে। তাদের দু’জনের বাবাই ব্যবসায়ী। মধুর বাবা ফার্নিচার ও রাকিবের বাবা পার্টস বিক্রেতা।টাকাটা বাবার কাছ থেকেই তারা নিয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল রাস্তায় সংগ্রহ করে নিজেরাই মিষ্টিমুখ করেছে তারা। মধু পেয়েছে জিপিএ ৪.৮৬ ও রাকিব পেয়েছে ৪.১১ পয়েন্ট। ফলাফলে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পরলেও দেশের মানুষের সঙ্গে আনন্দটা ভাগাভাগি করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছে তারা।

ঢাকাস্থ লালমনিরহাট ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা খন্দককার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, এতো অল্প বয়সে তারা যতো বড় মিশনে নেমেছে তা সত্যিই প্রশংসার। এর স্বীকৃতি দিতেই ছোট পরিষরে হলেও তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য