প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভারতের কেরালা রাজ্যে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও ভাইরাসটির বাহককে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

রোববার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেরালা থেকে ১৩টি ফলখেকো বাদুরের নমুনা ভারতের ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব হাই সিকিউরিটি অ্যানিম্যাল ডিজিজেসে পাঠিয়ে পরীক্ষা করানো হলেও সেগুলোতে নিপার ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি রাজ্যটি থেকে পাঠানো খরগোশের নমুনায়ও নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়নি।

নিপায় আক্রান্ত কেরালা থেকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো দ্বিতীয় সেট নমুনা ছিল এগুলো। এর আগে প্রথম সেটে শূকর, ছাগল, গরু ও পোকাখেকো বাদুরের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। সেগুলোর কোনোটিতেই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি।

নিপার প্রাদুর্ভাবে কেরালায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কেরালা রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের কোঝিকোদের একটি পরিবার থেকে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সেখানেই প্রথম নিপার সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর চার জনের মৃত্যু হয়।

নিপা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসায় কেরালার কোজিকোড়ের স্কুল ও কলেজগুলতি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার কেরালা সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ছুটি ঘোষণা করে। আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ছুটি থাকবে।

এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হল। এর আগে নিপার কারণেই গ্রীষ্মের ছুটি বাড়িয়ে ৫ জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এখনও বাদুড় সংক্রামিত এই ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটনায় সংক্রামণ ছড়ানোর ভয়েই দ্বিতীয় পর্যায়ে ছুটি আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক দিনে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ জন মারা গেছে কেরালার কোজিকোড়ে। মহামারীর আকার না নিলেও প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিপার প্রভাব পড়ে রাজ্যের পর্যটন শিল্পেও। যদিও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপা নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি।

পর্যটনের পাশাপাশি কেরালার ফল-সবজির ব্যবসাও নিপা ভাইরাসের জেরে মন্দা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কেরালা থেকে ফল ও সবজির আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য