ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ আবারো উৎপাদন বন্ধ হল দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে। এক্সক্লুসিভের অভাবে গতকাল শুক্রবার (১জুন) থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

গত ৩১ মে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাময়ীক ছুটি দিয়ে উৎপাদন সাময়ীক বন্ধ ঘোষনা করে খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। এই নিয়ে গত সাড়ে চার বছরে ৩ বার পাথর উৎপাদন বন্ধ হল খনিটিতে। এর পুর্বে গত ২০১৫ সালে এক্সক্লুসিভের অভাবে দুই মাস উৎপাদন বন্ধ হয়। একই বছর থেকে উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে দুই বছর উৎপাদন বন্ধ থাকে, এই বার এক্সক্লুসিভের অভাবে আরো এক দফা উৎপাদন বন্ধ হল খনিটিতে।

খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি জানায় চুক্তি অনুযায়ী বিস্ফ্রোক (এক্সক্লুসিভ) আমদানী ও সরবরাহ করার দায়ীত্ব, মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ (এমজিএমসিএল) এর। এই কারনে এক্সক্লুসিভ এর মজুদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পুর্বে, গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এক্সক্লুসিভ এর চাহিদা দেয়া হয় এমজিএমসিএল এর নিকট, কিন্তু চাহিদা দেয়ার ৬ মাস গত হয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএল) এক্সক্লুসিভ আমদানী করেনি। জিটিসি আরো জানায় পার্শবর্তি দেশ ভারত থেকে এক্সক্লুসিভ আমদানী করা যায়, এই জন্য মাত্র ৪০দিনে আমদানী করা সম্ভাব, অথচ ৬ মাস কেটে গেলেও তা আমদানী করা হয়নি।

তবে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলছেন এক্সক্লুসিভ আমদানী করতে রাষ্ট্রিয় অনুমতির প্রয়োজন হয় ও স্বরাষ্ট্র সন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে আমদানী করতে হয়। এই কারনে সময় লাগছে, তবে তিনি জানায় অল্প সময়ের মধ্যে এক্সক্লুসিভ আমদানী করা হবে।

জানা গেছে মধ্যপাড়া পাথর খনিটিতে গত ২০০৭ সাল থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হলেও, দিনে মাত্র ১২শ থেকে ১৫শ টন পাথর উত্তোলন হত। এতেকরে খনিটি বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ে। গত ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খনিটির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি) এর সাথে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনযায়ী গত ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে জিটিসি উৎপাদন শুরু করে এবং খনিটিতে প্রতিদিনের উৎপাদন বেড়ে দাড়ায় সাড়ে ৪ হাজার টনে, এতেকরে খনিটি লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। কিন্তু উৎপাদন শুরু হওয়ার ৬ মাসের মাথায় এক্সক্লুসিভ এর অভাবে, খনিটিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়, দুই মাস বন্ধ থাকার পর এক্সক্লুসিভ আমদানী করে আবারো উৎপান শুরু হলে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে উৎপাদন ডন্ত্রের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়।

এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিদাশ থেকে বিশ্বমানের উৎপাদন যন্ত্র আমদানী করে খনিতে স্থাপন করতে দুই বছর সময় লেগে যায়। দুই বছর পর আবারো উৎপাদন শুরু করার এক বছরের মাথায় এক্সক্লুসিভের অভাবে আবারো পাথর উত্তোলন বন্ধ হল খনিটিতে। এতে করে মধ্যপাড়া পাথর খনিটি বারবার লাভের জায়গ্য়া গিয়েও ফিরে আসচ্ছে।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিষোধ করতে বড় রকমের লোকশান গুনতে হচ্ছে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির বলে অভিযোগ করেন জিটিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য