ফাইল ফটো

লবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও অচল অবস্থা কাটেনি। গত ২১ দিন শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসুচি পালন করার পর। আজ শনিবার থেকে অবোরোধ কর্মসুচি শুরু করেছে, আন্দোলনরত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরা।

শনিবার সকাল থেকে খনির দুটি উত্তর ও দক্ষিন গেটে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এতে করে খনির সদর দপ্তরে আবারো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে খনিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটের কারনে গত ২১ দিন থেকে কয়লা উৎপাদন কমে গেছে খনিটিতে, বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আন্দোলন করায়, চিনা শ্রমিক দিয়ে দিনে একটি মাত্র শিপ্টে কয়লা উত্তোলন করছে মাত্র ৮০০ থেকে এক হাজার টন। অথচ প্রতিদিন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করতে হয় ২ হাজার ৫শ টন থেকে ৩ হাজার টন। এতে করে কয়লা ইয়াডে কয়লার মজুদ দিন দিন কমে যাচ্ছে, ফলে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে কয়লা ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৩মে থেকে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩ দফা দাবীতে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসুচি পালন করে আসছে। শ্রমিক ধর্মঘট চলাকালিন গত ১৫ মে সকালে কয়েকজন কর্মকর্তা খনির ভিতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের সাথে শ্রমিকদের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভায় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।

এই উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়, পেট্রবাংলা পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামালকে আহবায়ক করে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৬ মে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে উভায় পক্ষের বক্তব্য শুনে গেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি। এর ফলে গত ৩০ মে সংবাদ সম্মেলন করে ২জুন থেকে অবোরোধ কর্মসুচি ঘোষনা করে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার গত ৩১ মে তার নির্বাচনী এলাকায় ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুরে সফরে আসলে ওই দিন দুপুরে তার ফুলবাড়ী শহরে নিজ বাড়ীতে দেখা করতে আসেন আন্দোলনরত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা। কিন্তু তিনি কোন প্রকার আশ্বাস না দেয়ায়, আবারো আন্দোলনে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা।

খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন চুক্তি অনুযায়ী রেশন, সাপ্তাহিক ছুটি ওবোনাস দেয়ার কথা থাকলেও গত ৯ মাস থেকে শ্রমিকরা তাদের পাওনা ছুটি রেশন ও বোনাস পাচ্ছেনা। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান আবু সুফিয়ান বলেন শ্রমিকদের শান্তিপুর্ন আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে শ্রমিকদের উপর হামলা করে উল্টা শ্রমিকদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছে, এগুলো সবেই ষড়যন্ত্র।

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন আমাদের জমি গেছে জায়গা গেছে অথচ আমাদেরকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার চেয়ার করছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই কথা বলেন ক্ষতি গ্রস্থ গামবাসীর আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন বলেন, পেট্র বাংলা চেয়ারম্যান মহাদয় শ্রমিকদের বারবার কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন, কিন্তু শ্রমিকরা সেই অনরোধ শুনেনি। এই উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য