লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাসাতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি রহেদুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার কোনো সত্যতা পায়নি। পুলিশ বলছে, স্থানীয় শ্রমিকদের পুর্বের ঘটনার জের ধরে অতিরঞ্জিত এ ঘটনার সৃষ্টি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই উপজেলার ভোটমারী রেলগেগট এলাকায় শ্রমিক লীগের অফিস ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি রহেদুল ইসলাম সরদার আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোটমারী এলাকার সমসের সরদারের ছেলে ও স্থানীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি রহেদুল ইসলাম সরদারসহ কয়েক জন শ্রমিক ভোটমারী রেলগেট এলাকায় বাস-ট্রাক থামিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। ওই চাদাঁর টাকা আদায় নিয়ে এ আগে একাধিকবার স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে রেল গেট এলাকায় একটি শ্রমিকলীগের অফিসটি ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি রহেদুল ইসলাম সরদার আহত হয়েছে। ঘটনার একটি দিন শুক্রবার ওই সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি’র ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে থানায় একটি মামলা করেন স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা রাশিদুজ্জামান।

মামলায় স্থানীয় শ্রমিক বুলবুল হোসেনসহ ৫ জন সাধারণ শ্রমিককে আসামী করা হয়েছে। তবে ওই দিন রাতের সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আশারাফুল ইসলাম রাজুসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

তারা জানান, শ্রমিকলীগের কোনো কমিটি নেই। শ্রমিক রহেদুল ইসলাম সরদার নিজেকে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি দাবি করে ট্রাক-বাস থামিয়ে চাদাঁবাজি করছেন। রহেদুল নিজেরাই বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে যারা তার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করছে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

তবে রহেদুল ইসলাম সরদার বলেন, শ্রমিক লীগের অফিসে একা পেয়ে বুলবুল হোসেনসহ কয়েকজন শ্রমিক আমাকে মারধর করেন। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, ওই সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকদের মধ্যে পূর্বের বিষয় নিয়ে অতিরঞ্জিত এ ঘটনার সৃষ্টি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য