কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি আবাসিক স্কুলের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ। নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর ভূয়া নাম ব্যবহার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্কুলে এনে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেয়ে অবরুদ্ধ ওই শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেভর্তি করায়। এ ঘটনায় অভিভাবক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার এন.এস আমিন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের পূত্র ইশরাক আল সিয়াম ঐ প্রতিষ্ঠানের ৪র্থ শ্রেণির আবাসিক ছাত্র। একই শ্রেণির ছাত্রি ফাহি নামের এক বান্ধবীর সাথে তার কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি সিয়াম ও তার মা ইশরাত জাহান ইরানী স্কুলের পরিচালক পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শামীম আক্তার আমিনকে জানান। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন প্রতিকার না করায় গত ৩১ মে ফাহির পিতা স্কুল সংলগ্ন গুনাইগাছ মোড়ের বাসিন্দা ফজলুল হক স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনেই সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে। এসময় ছাত্ররা এসে আহত শিক্ষর্থীকে উদ্ধার করলেও শিক্ষকরা নির্বিকার থাকে।

পরে সিয়ামকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসফল মাহমুদ ছদ্দ নামে চিকিৎসা দিয়ে গোপনে প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সিয়াম বাড়ি যাবার জন্য কান্নাকাটি শুরু করলে পরিচালক শামীম আক্তার আমিন বিষয়টি কাউকে বললে তাকে আরো কঠিন শাস্তি দেয়া হবে বলে ভয়ভীতি দেখান। স্কুলের এক আবাসিক ছাত্রির মাধ্যমে ঘটনা জানতে পেরে জানতে পেরে তার মা সিয়ামকে নিতে গেলে পরিচালক তাতেও বাধা প্রদান করেন।

পরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর কায়ছার আলী ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত সিয়ামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীর মা ইশরাত জাহান ইরানী বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিভাবক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। উল্লেখ্য, আবাসিক শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতো না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রফিকুল ইসলাম সরদার জানান,শারীরিক নির্যাতনের ফলে আহত ওই শিক্ষার্থীর কান দিয়ে রক্ত ঝড়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এন.এস আমিন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পরিচালক শামীম আখতার আমীন জানান, আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করি এবং নির্যাতনকারি অভিভাবকের মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেই।

থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য