১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নার্স রাজান আশরাফ আল নাজ্জারকে গুলি করে হত্যা যুদ্ধাপরাধ ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাওয়াদ আওয়াদ।

শুক্রবার গাজা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত খান ইউনিসে ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটিতে ফেরার বিক্ষোভে আহতদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার সময় ওই ফিলিস্তিনি তরুণীকে গুলি করে বর্বর ইসরাইলি স্নাইপাররা। তাকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন তার পরনে সাদা ইউনিফর্ম ছিল।

এতে অন্য বিক্ষোভকারীদের থেকে তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। এছাড়া, তিনি যখন এক আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, তখন হাত উপরে উঠিয়ে রেখেছিলেন যাতে চিকিৎসাকর্মী হিসেবে তাকে সবার থেকে আলাদা করা সম্ভব হয়। কিন্তু ইসরাইলি স্নাইপাররা তার বুকে গুলি করলে তিনি শহীদ হন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাওয়াদ আওয়াদ এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “নারী চিকিৎসাকর্মী আল নাজ্জারকে ইসরাইলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। এটা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।”

ফিলিস্তিনি বিচারমন্ত্রী আলী আবু দিয়াক বলেন, দখলদার বাহিনী এক চিকিৎসাকর্মীকে হত্যা করে ঘৃণ্য অপরাধ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ইসরাইলি নৃশংসতাকে নথিভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির নেতা, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেন তাদের বিশেষ সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। ১৯৪৯ সালের চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ২৪ অনুচ্ছেদে আহত কিংবা অসুস্থদের উদ্ধার করে তাদের নিয়ে গিয়ে চিকিৎসায় কাজ করা চিকিৎসাকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরাইল বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।

গত ৩০ মার্চ থেকে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে এ পর্যন্ত ইহুদিবাদী সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ১২০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে যাদের মধ্যে ১৪টি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন আরো ১৩,৩০০ জন যাদের মধ্যে ৩০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য