ইউক্রেনে নির্বাসিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক আরকাদি ববচেঙ্কো মঙ্গলবার নিহত হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পরদিন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বশরীরে হাজির হন ‘নিহত’ এই সাংবাদিক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে হত্যার ঘটনাটি সাজানো বলে জানান তিনি। এই সাংবাদিক দাবি করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন, সেই হত্যা পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়ান তিনি। এমনকি নিজের স্ত্রীকেও এই বিষয়ে আগাম কোনও তথ্য দেননি।

মঙ্গলবার ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানায়, ববচেঙ্কোকে নিজের বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাসায় স্ত্রীর পাশে রক্তে ভেজা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে তার লাশ। কিন্তু বুধবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের অবাক করে দেন ববচেঙ্কো।

সংবাদ সম্মেলনে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে ববচেঙ্কো বলেন, আপনারা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন সেজন্য ক্ষমা চাইছি। আমি দুঃখিত। কিন্তু এটা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। আমি আমার স্ত্রীর কাছেও ক্ষমা চাই। তাকে ভয়াবহ কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

ববচেঙ্কোর হত্যার খবর নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোও নিন্দা জানায়।

গত কয়েক বছরে পুতিন সমালোচক বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বিরোধী গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এসব হত্যার কাণ্ডে নেপথ্যে রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কার্যালয় ক্রেমলিন। তবে ক্রেমলিন তা অস্বীকার করে আসছে।

৪১ বছরের ববচেঙ্কো ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক। ইউক্রেন ও সিরিয়ায় রুশ নীতিরও সমালোচক তিনি।

অবশ্য ববচেঙ্কোর মৃত্যুর নাটক সাজানোর ঘটনায় ইউক্রেনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম বলছে, সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা খাটো করতেই এমনটা করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ক্রেমলিনের হাতে প্রোপাগান্ডার নতুন হাতিয়ার তুলে দেওয়া হয়েছে।

ববচেঙ্কো তাকে হত্যার নাটক সাজানোর জন্য ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রশংসা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তার জীবন বাঁচানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে তিনি টুইটারে লিখেছেন, পুতিনের সমাধিতে দাঁড়িয়ে নাচার পর যখন আমার বয়স ৯৬ বছর হবে তখন আমি মৃত্যুবরণ করব। সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য