বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল পাঁচদফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। মঙ্গলবার উপাচার্য ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকায় তার ব্যক্তিগত সচিব আমিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে নীলদলের শিক্ষকরা। উপাচার্যের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আমিনুর রহমান। স্মারকলিপির মাধ্যমে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচদফা দাবি পূরণের নিশ্চয়তা প্রদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি নেয়ার হুমকি দেয়া হয় নীলদলের পক্ষ থেকে।

পাঁচদফা দাবি সমূহ হলো-
১. যোগ্যতা অর্জনকারী সকল শিক্ষককে আপগ্রেডেশন/প্রমোশন দিতে হবে।
২. অস্থায়ীপদে শিক্ষকগণের চাকরি স্থায়ীকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. শিক্ষাছুটি প্রত্যাহার করে যে হয়রানি করা হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষাছুটি প্রাপ্যদের সহজে শিক্ষাছুটি মঞ্জুর করতে হবে।
৪. নীলদলের শিক্ষকদের প্রশাসন কর্তৃক উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৫. একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন না নিয়ে ইচ্ছামাফিক যোগ্যতা নির্ধারণ করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সম্প্রতি যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।

এছাড়া স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, আগামী ৩০ এবং ৩১ মে বিভিন্ন বিভাগের চারজন শিক্ষকের প্রভাষক হতে সহকারী অধ্যাপক পদে প্রমোশনের জন্য বোর্ড হতে যাচ্ছে। কিন্তু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নীলদলের তিন বিভাগের তিনজন শিক্ষকের বোর্ড হচ্ছে না। নীলদলের সদস্য হওয়ার কারণে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক নুরনবী ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক চার্লস ডারউইনের প্রমোশনের ব্যাপারে প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ নীলদল ত্যাগ করায় গণিত বিভাগের শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের বোর্ডেও তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ঘটনা নীলদলের শিক্ষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ-এর সাথে নীলদলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের কথা বলতে গেলে তাদের সাথে কথা না বলেই বের করা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন নীলদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। পরে সাধারণ সম্পাদক উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন।

এ বিষয়ে নীলদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের বলেন, নীলদলের শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। নীলদলের শিক্ষকদেরকে যাতে কোনভাবেই হয়রানি এবং যেকোন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা না হয় এজন্য আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।
এবিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য