পরস্পরের ইতিহাসভিত্তিক পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করার ব্যাপারে সমঝোতা করেছে ইসরায়েল ও মিয়ানমার। সোমবার শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এক চুক্তিতে বিষয়টিতে একমত হয় দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার ইসরায়েলের পাঠ্যসূচিতে বর্ণিত মিয়ানমারের ইতিহাস ইচ্ছেমতোন বদলে দিতে পারবে।

একইভাবে মিয়ানমারের পাঠ্যসূচিতে থাকা নিজেদের ইতিহাস বদলে দিতে পারবে ইসরায়েল। দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিজিপি হোতোভেলি এক টুইট বার্তায় বলেন, বিশ্বজুড়ে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্যই মিয়ানমারের সঙ্গে এই শিক্ষা চু্ক্তি।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‍বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো মিয়ানমার ও ফিলিস্তিনে দখলদারি চালানো ইসরায়েলের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়েই চুক্তিটি করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারীরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

প্রগতিপন্থী ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এর খবরে বলা হয়েছে, সোমবারের চুক্তিতে মিয়ানমারে একটি শিক্ষা কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে হলুকাস্ট এবং অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও বিদেশাতঙ্কের নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

হারেৎজ এর খবরে বলা হয়, চুক্তিটিতে ইসরায়েল ও মিয়ানমার কীভাবে একে-অপরের পাঠ্যবই সংশোধনে কাজ করবে। সরকারগুলো স্কুলের বইগুলো পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে নিজেদের ইতিহাস অন্যদেশের বইতে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাই দেখবে তারা। পরে যেখানে প্রয়োজন তা সংশোধন করবে দেশ দুটি।

গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেয় জাতিসংঘ। আর গত মার্চ মাস থেকে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে পশ্চিমতীরে বসতি নির্মাণ করে যাচ্ছে দেশটি। এই সপ্তাহেই ইসরায়েলের শীর্ষ আদালত ফিলিস্তিনি গ্রাম খান আল আহমার গুড়িয়ে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একে ‘জাতিগত নিধন’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।

মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইসরায়েলি হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী ইতায় ম্যাক মিডল ইস্ট মনিটরকে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি গানবোট ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে এনেছে রাখাইনের জাতিগত নিধনের আলামত। জাতিসংঘও জাতিগত নিধনের আশঙ্কা করছে। সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি) ধারাবাহিকভাবে একে জাতিগত নিধন বলে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য