দুই দেশের সীমান্তে ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।

বিরল এক সমঝোতায় মঙ্গলবার দক্ষিণ এশিয়ার বৈরি দুই দেশ সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্ত লংঘন ও ধারাবাহিক গুলিবর্ষণের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছিল। গত দেড় বছরে সীমান্ত লংঘন করে ভারতীয় বাহিনীর চালানো হামলায় কেবল পাকিস্তানেরই শতাধিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের।

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক অভিযান বিষয়ক মহাপরিচালক পর্যায়ে হটলাইন যোগাযোগের পর নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে এ সমঝোতা হয় বলে জানিয়েছে ডন। ইসলামাবাদের উদ্যোগে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা ও ভারতীয় বাহিনীর লেফটেনেন্ট জেনারেল অনিল চৌহানের মধ্যে এ যোগাযোগ হয়।

দুই সামরিক কর্মকর্তার আলোচনার পর দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রায় একই ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়। অভূতপূর্ব এ বিবৃতিতে কেউই অন্যের অন্যায় আচরণ বিষয়ে কিছু বলেনি, আগের বিবৃতিগুলোতে প্রায়শই যার উল্লেখ থাকত।

বিবৃতিগুলোর ভাষা এতটাই কাছাকাছি যে সীমানার পরিচিতি ও আরও কিছু বিষয়ে সামান্য মতপার্থক্য না থাকলে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ এ ইস্যুতে যৌথ বিবৃতি দিতে পারত বলেও মন্তব্য ডনের।

সামরিক বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের এ যোগাযোগ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় হয়, যার কিছু সময় পর দুই দেশই এ সংক্রান্ত বিবৃতি দেয়।

সাধারণত এ ধরনের আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর দুই দেশের পক্ষ থেকে তা জানানো হত। এবারের তড়িঘড়িতে আগে থেকেই এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল এবং দুই মহাপরিচালকের যোগাযোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতা ছিল বলেও ধারণা ডনের।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মঙ্গলবার ওই সমঝোতার বিষয়ে রাজি হওয়ার পর এ আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও পরে বিবৃতি ছাড়া হয় বলে অনুমান পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমটির।

তারা বলছে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেও সংযমী আচরণ করতে এবং হটলাইন ও স্থানীয় পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সংকট মোকাবেলায় দুই মহাপরিচালক সম্মত হয়েছেন।

২০০৩ সালে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মেনে নেওয়া যুদ্ধবিরতিও হটলাইন যোগাযোগের মাধ্যমেই অনুমোদিত হয়েছিল। ওই যুদ্ধবিরতিতেও নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং সীমান্ত বিষয়ে উল্লেখ ছিল।

সীমান্ত এবং কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা কমাতে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের আস্থা অর্জন এবং দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকের চেষ্টা চলছে বলে এর আগে জানুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল ডন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য