আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না মানুষ। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছেন।

জানা যায়, ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে গড়ে ওঠে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরেই এ হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। যেখানে অপারেশন থেকে শুরু করে সকল ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ভবন নির্মাণ হলেও নেই ৫০ শয্যার জনবল। বিধায় ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছে হাসপাতালটি।

এরমধ্যে প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালের অনেক পদই শুন্য রয়েছে। ফলে এ উপজেলার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবার মত গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার থেকে। একমাত্র চিকিৎসক দিয়েই চলছে আন্তঃ ও বহিঃবিভাগে আসা হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ভেলাবাড়ি থেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন বৃদ্ধ সহির উদ্দিন (৮০)। সকাল ১০টায় হাসপাতালে এসে এক ঘণ্টা বসে থেকেও চিকিৎসকের দেখা পাননি। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃদ্ধ সহির উদ্দিন বলেন, ‘গরীবের কোনো ভালাই নেই বাপু। এক ঘণ্টা ধরি বসি আছি ডাক্টারের দেখা পাইনি। একজন ডাক্টার তাও আবার উপরে (আবাসিক) রোগী দেখছেন। ওখানে শেষ হইলে তারপর নিচে নামলে হামরা ডাক্টারের দেখা পামো।’স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা

পেট ব্যাথা ও বমির সমস্যায় তিস্তা চরাঞ্চল কুটিরপাড় থেকে হাসপাতালে এসেছেন আলতাব হোসেন (৭৫)। তিনি বলেন, ‘ডাক্টারের দেখা কখন পামো বাহে। গরীব মানুষ মরি গেইলেই বা কার কী হয়। এটাই তো হামার শেষ ভরসা। তাতেও আবার নাই ডাক্টার।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার জনবল অনুযায়ী জুনিয়র কনসালটেন্ট পাঁচটি পদই শুন্য। মেডিকেল অফিসার ১০টি পদের আটটি শুন্য, একজন প্রেষনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। একমাত্র চিকিৎসক ডা. মো. হামজা একাই আন্তঃ ও বহিঃবিভাগে রোগী দেখেন। স্যাকমো ১০টি পদের সাতটি শুন্য, তিন জনের একজন দুর্গাপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। মাত্র দুইজন স্যাকমো ভরসা বহিঃবিভাগের রোগীর জন্য। নার্স ২২ জনের দুইটি শুন্য। টেকনিশিয়ান পদ শুন্য থাকায় প্যাথলজি বিভাগে ঝুলছে তালা। এক্স-রে মেশিন দেড় যুগ ধরে বিকল।

ডা. মো. হামজা জানান, ১০ জনের কাজ একা করতে গিয়ে তিনি নিজেই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোগীদের ভিড়ে বিরতি হীনভাবে চলছে সেবা। তবে এ শ্রম স্বাস্থ্য সম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নবিউর রহমান জানান, জনবল চেয়ে প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ে চিঠি ও উপজেলা সম্বন্বয় কমিটির মিটিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কোন কাজে আসছে না। তবে হাসপাতালের ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ জানান, চিকিৎসক সংকট পূরণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ চুড়ান্ত হলে শুন্যতা পূরণ হবে। তখন সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য