সিরিয়ার ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ইরানি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হটাতে একটি ‘গোপন চুক্তি’ করেছে রাশিয়া ও ইসরায়েল। ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখার বিনিময়ে গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ আসাদ সরকারের হাতে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল। চুক্তির আওতায় ইরান, হিজবুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ সব বিদেশি শক্তিকে সিরিয়া থেকে চলে যাওয়ার আহ্বানও জানাবে রাশিয়া। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি হাদাসট টিভির খবরে বলা হয়, গোপন চুক্তিটি গত শুক্রবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদোর লাইবারম্যান ও রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্জেই সোইগুর মধ্যে ফোনালাপে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে মস্কো সফরে যাবেন লাইবারম্যান।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই ল্যাভরভ ইরান ও হিজবুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মনে করছে সংবাদমাধ্যমটি। কয়েকদিন আগে ল্যাভরভ বলেছন, ইসরায়েলের সঙ্গে সিরীয় সীমান্তে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর উপস্থিত থাকা উচিত। তার এমন বক্তব্যে বোঝা যায়, রাশিয়া ইরানকে সিরিয়ার অন্যান্য অংশে অবস্থান নিতে দেবে।

ল্যাভরভের এই বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সিরিয়ার যেকোনও অংশে ইরানের উপস্থিতিতে ইসরায়েলের আপত্তি রয়েছে। তার দফতর থেকে হাদাসটকে বলা হয়, ইসরায়েল কোন্ও অসম্পূর্ণ চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। তারা সিরিয়ার সবখান থেকে ইরানি সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার চায়।

রাশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তির একটি ধারায় সিরিয়ায় ইরানি সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার দেওয়ার হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে হাদাসট বলেছে, এই ধারা থাকায় ইসরায়েল চুক্তিটিতে নিজেদের জন্য বড় অর্জন মনে করছে। এর মানে হলো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশই সিরিয়ায় ইরানি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তিকে সমর্থন করছে। খবরে আরও বলা হয়, রাশিয়ার সুরক্ষায় ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি হলে ৮ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষ আসাদ আবারও প্রায় পুরো সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ পাবেন।

চুক্তিটি করার জন্য বুধবার মস্কো যাবেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাইবারম্যান। এই সফরে তিনি রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইসরায়েলের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ছাগাই টিজুরিয়েল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে আশাপ্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগে সিরিয়ায় ইরানের সুসংহত হওয়া বন্ধ করতে রাশিয়াকে রাজি করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য