যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমুদ্রসৈকত থেকে এক তরুণীকে গ্রেপ্তারের সময় তার মাথায় পুলিশ সদস্যের ঘুসির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন পুলিশ।

ওয়াইল্ডউড পুলিশের তিন সদস্য ২০ বছর বয়সী এমিলি ওয়েইনমেনকে গ্রেপ্তারের সময় ওই কাণ্ড ঘটে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে।

ওয়েইনমেনের বিরুদ্ধে পরে সমুদ্রসৈকতে অবৈধভাবে অ্যালকোহল রাখা ও গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে বলে ওয়াইল্ডউড পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর নিহত সদস্যদের স্মরণে উদযাপিত মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির আগে নিউ জার্সির সমুদ্রসৈকতে সুইমস্যুট ও শর্টস পরিহিত ওয়েইনমেনের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ধস্তাধস্তির ঘটনাটি ঘটে।

ওয়েইনমেনকে গ্রেপ্তারের সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে উপর থেকে জাপটে ধরেন; ফিলাডেলফিয়া থেকে আসা ওয়েইনমেন অন্য পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মেরে সরিয়ে দিতে চাইলেও ওই কর্মকর্তা পরে তার পা আটকে ফেলেন।

এরই এক পর্যায়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা মুঠি পাকিয়ে তরুণীটির মাথায় ঘুসি মারেন। পরে ওয়েইনমেনকে পেছনমোড়া করে হাতকড়া পরানো হয়।

ধস্তাধস্তির সময় পুলিশের কাজে বাধা না দিতে প্রত্যক্ষদর্শীরা যে ওয়েইনমেনকে অনুরোধ করেছিল ভিডিওতে তাও শোনা গেছে।

নিউ জার্সির উইলিয়ামসটাউনের বাসিন্দা অ্যালেক্সিস হিউয়িট সমুদ্রসৈকতে পুলিশের গ্রেপ্তারকাণ্ডের ভিডিওটি করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

হিউয়িট বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে থাকার সময় হঠাৎ করেই তিনি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিটি খেয়াল করেন।

“যখন সে (ওয়েইনমেন) পড়ে গেল, তখনই সবার চিল্লাচিল্লিতে আমি উঠে দাঁড়াই এবং বিষয়টি আমারও চোখে পড়ে। তার নিচে পড়ে থাকা অবস্থাতেই আমার ক্যামেরাটি চালু করি,” এবিসি নিউজকে এমনটাই বলেন ১৯ বছর বয়সী হিউয়িট।

ওয়াইল্ডউড পুলিশ ওয়েইনমেনের বিরুদ্ধে সমুদ্রসৈকতে অ্যালকোহল রাখার পর অগোছালো আচরণ, পুলিশের কাজে বাধা ও এক কর্মকর্তার দিকে ‘শরীর নিঃসৃত তরল ছুড়ে দেওয়ার’ অভিযোগ এনেছে।

গ্রেপ্তারের সময় তরুণীকে ঘুসি মারা সম্পর্কিত অভিযোগ নজরে আসার পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার কথাও জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য