আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট জিসি ভায়া সড়কটির শ্রেণী পরিবর্তনের গেজেট না হওয়ায় সংস্কারকাজও হচ্ছে না। সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই ভাঙাচোরা সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট ৫ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার রাস্তাটি সওজের অধীনে এলে বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট-মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট-রংপুর পর্যন্ত ১২৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ‘সাসেক-টু’ প্রকল্পের আওতায় চার লেন নির্মাণ করা হবে। ৫ মে সাসেক-টু প্রকল্পের (এলেঙ্গা থেকে রংপুর) প্রকল্প পরিচালকসহ একটি প্রতিনিধি দল রংপুর মডার্ন মোড় থেকে কাউনিয়া-মোস্তফিরহাট-মহেন্দ্রনগর-লালমনিরহাট-হাতীবান্ধা-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত পরিদর্শনও করেছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন থেকে গেজেট না হওয়ায় তা আটকে আছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন শাখা, সওজ ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অবকাঠামো বিভাগের সড়কগুলোর পুনঃশ্রেণীবিন্যাস-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় সড়ক পরিবহন বিভাগ ও মহাসড়ক বিভাগের এবং এলজিইডির ১৭টি সড়কের মধ্যে একটি সড়ক সওজের কাছ থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে, আর ১১টি সড়ক এলজিইডির কাছ থেকে সওজের কাছে হস্তান্তর ও পাঁচটি সড়কের শ্রেণী পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে লালমনিরহাট এলজিইডির অধীনে থাকা মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট জিসি ভায়া রাস্তাটি সওজের কাছে হস্তান্তর এবং মহাসড়কে পুনঃশ্রেণীবিন্যাসের সিদ্ধান্ত হয়।

রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক ও বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়ক লালমনিরহাট সওজ বিভাগের আওতাধীন। তবে এলজিইডির আওতাধীন মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট সড়কটির দুই প্রান্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে এটি সওজের অধীনে হস্তান্তরের পক্ষেই সভায় যুক্তি তুলে ধরা হয়।

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু বলেন, আলোচিত সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। এটি বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাটের ব্যবসা-বাণিজ্য আরো বাড়বে। বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট অংশটি জাতীয় মহাসড়ক হলে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো হবে। এটি হলে সবকিছুতে সাশ্রয় হবে। পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা জানান, এটি মহাসড়ক হলে লালমনিরহাট-রংপুর যাতায়াতে আর অতিরিক্ত ২০ কিলোমিটার ঘুরতে হবে না। এতে অন্তত আট লিটার তেল সাশ্রয় হবে।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম জাকিউর রহমান জানান, সড়কের পুনঃশ্রেণীকরণ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সওজ বিভাগের কাছে সড়কটি হস্তান্তর করা যেতে পারে মর্মে ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু গেজেট না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি বক্স কালভার্টসহ রাস্তাটি সংস্কার করার কাজ ঝুলে আছে।

হস্তান্তরের চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নূরায়েন বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও পরিকল্পনা কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে না। এটি হলে বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর-মোস্তফিরহাট হয়ে রংপুরের সঙ্গে মহাসড়কে যুক্ত হবে। এতে লালমনিরহাট সদর থেকে রংপুরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, গেজেট না হওয়ার কারণে কোনো পক্ষই রাস্তাটির সংস্কারকাজ করতে পারছে না। ফলে বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না গেলে বর্ষায় রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে।
তবে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু সালেহ মো. সাঈদ দুলাল বলেন, দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও রাস্তাটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য