সাগরপথে ফিলিস্তিনিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সামুদ্রিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। এ বছরের শেষ নাগাদ গাজা থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে সাগর এলাকায় এ কাঁটাতারের বেড়ার নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবিকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বিশ্বে এ ধরনের কাঁটাতারের বেড়া এটাই প্রথম।

২০০৭ সালে হামাসের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে উপকূলীয় গাজা উপত্যকাকে অবরোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আসছে ইসরায়েল। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গাজার জেলেদের মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে। ছয় নটিক্যাল মাইল বা ১১ কিলোমিটারের বেশি গেলে গাজার জেলেদের নৌকা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ইসরায়েলিরা। এবার তারা সাগরপথে কাঁটাতারের বেষ্টনী তৈরি করছে।

রবিবার (২৭ মে) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বলেন, ‘বিশ্বে এ ধরনের বেষ্টনী এটাই প্রথম। এটি সাগরপথে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ কার্যকরীভাবে বন্ধ করবে। এটি হামাসকেও হতাশ করবে। তারা আরেকটি কৌশলগত সক্ষমতা হারাবে।’

ইসরায়েলি মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধের সময় হামাস যোদ্ধারা সাগরপথে সফলভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে জানার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই কাঁটাতারের বেড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলো।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনিরা চায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করা হোক। ‌আর ইসরায়েলের দাবি, জেরুজালেম অবিভাজ্য। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র দুইটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নীতি থেকে সরে এসে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে ফিলিস্তিনিরা। এরপর প্রতি বছ ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে দ্য মার্চ অব রিটার্ন নামে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এবারের কর্মসূচির শেষ ২ দিনে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে। এ বছর মার্চের শেষে ফিলিস্তিনিদের মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলন শুরুর পর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ‘ছয়দিনের যুদ্ধ’ অবসানের বর্ষপূর্তিতে আগামী ৫ জুন আবার গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন গাজার হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য