দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি,এম, এ মমিন ডিজিটাল ঘোড়াঘাট গড়তে দাপ্তরিক কাজের বাইরে জনসেবা মূলক ১৫টি ইনোভেশন কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন।

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন জানান, গত এক বছরে তিনি তার দাপ্তরিক কাজের বাইরে ১৫টি জনসেবামূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি যে সব ইনোভেশন নিজ উদ্যোগে করেছেন তা হলো, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে গৃহিত পদক্ষেপের আওতায় এ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু তাঁত প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ৫০ জন বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ওই উপজেলার করতোয়া শ্মশান ঘাট নিয়ে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছেন। মাদকাসক্তিরোধ, বই পড়ার অভ্যাস গঠন ও মুক্তিযুদ্ধ সমৃদ্ধ ইতিহাস জানতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধ ও মনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে উল্টো দিকে আসন বিন্যাসকরণ এবং তা ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক সহ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

ভূমি অফিসের আধুনিকায়নে জনসাধারনকে সচেতন করতে জন হয়রানী রোধকল্পে ভূমি সংক্রান্ত মামলা এড়াতে এবং জনবান্ধব ভূমি অফিস গড়তে পোষ্টার লিফলেট, ফেষ্টুন ইত্যাদি বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ দেশী এবং স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপজেলা হলরুম সাউন্ড প্রুফ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী আলোক চিত্রের মাধ্যমে ইনটেরিয়র ডিজাইন করা হয়েছে।

উপজেলা ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মোটর সাইকেল হারিয়ে যাওয়া প্রতিরোধকল্পে মোটর সাইকেল গ্যারেজ স্থাপন, গত ১ যুগ থেকে পরিত্যাক্ত শুকনো পুকুর সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন ও মাছ চাষের উপযোগী করা হয়েছে। উপজেলার বলাহার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকায় প্রথম বারের মত শতভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান করে মশা নিধন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বৃক্ষ সমূহ ছাটাই করণ, সজ্জিতকরণ, রং করণ এবং রাস্তা সজ্জিতকরণ করা হয়েছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুব মহিলাদের ডাটাবেজ সংরক্ষণ, ফুলকুড়ি উপজেলা প্রশাসন স্কুলের ব্যাপক উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মচারীদের ইউনিফর্ম প্রদান, ব্যতিক্রমী ও জাকজমক পূর্ণভাবে জাতীয় দিবস সমূহ উদযাপন করা হয়।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোঃ শামীম হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি,এম,এ মমিন দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি যে সব ইনোভেশন এর কাজ করে যাচ্ছেন তা খুবই প্রশংসিত। তিনি ইউএনও হিসেবে সর্বোচ্চ পুরস্কার পেলে আরও দেশ ও জাতির জন্য তার কাজের উৎসাহ বেড়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি,এম,এ মমিনের সঙ্গে তার এ ইনোভেশন কাজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সরকারী কাজের বাইরে দেশের জন্য কিছু করাটা আমার দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ড. আ ন ম আবদুছ ছবুর বলেন, মডেল উপজেলা হিসেবে এগিয়ে নেয়ার জন্য ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয় এবং সরকারের নির্দেশনাবলী সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য