ইসরায়েলি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অসহযোগ আন্দোলন শুরু করতে জনগণকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আলজেরিয়ার এক ব্লগারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সেদেশের আদালত। পাশাপাশি মারজুক তোয়াতি নামের ওই ব্লগারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার দিনার জরিমানা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৪ মে) আলজেরিয়ার বেজাইয়া শহরের আদালত এ সাজা ঘোষণা করে।

তবে বেজাইয়া জুডিশিয়ারি কাউন্সিল মারজুককে আজীবন কারাদণ্ড প্রদানের আবেদন জানিয়েছিলেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে ফিন্যান্স অ্যাক্ট ২০১৭ এর বিরোধিতা করে বেজাইয়া শহরে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছিলো। সেসময় মারজুক তোয়াতি তার ওয়েবসাইটে একটি সংলাপের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানে দেখা যায় মারজুক এক ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করছেন। অভিযোগ ওঠে ভিডিওতে মারজুকের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি আরব মিডিয়ার সঙ্গে কতা বলে থাকেন।

এ ঘটনার পর আলজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী মারজুকের বাড়িতে অভিযান চালায় এবং তার কম্পিউটার জব্দ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, মারজুকের সঙ্গে এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে, যারা আলজেরিয়ান বিচারব্যবস্থা থেকে পালিয়ে গিয়ে মরক্কোর মতো দেশে বাস করছে।

মারজুক তোয়াতির সঙ্গে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। ইসরায়েলে স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্টদের তার যোগাযোগ হয়। গ্যাব্রিয়েল কাতুফ নামের এক ইসরায়েলি অ্যাক্টিভিস্ট টাকার বিনিময়ে আলজেরিয়ার ইহুদিদের সম্পদের তথ্য চেয়েছিলো। ওই ব্লগার তাকে সে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ, মারজুক ওই অ্যাক্টিভিস্টকে বলেছিলেন, এ ব্যাপারে তিনি কোনও ইসরায়েলি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিটি সেই ইসরায়েলি কর্মকর্তা। কেউ কেউ বলছেন, ওই ব্যক্তি ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগের কর্নেল, আবার কেউ বলছেন তিনি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। মারজুক তাকে আলজেরিয়ার বর্ণ এবং জাতিগোষ্ঠী নিয়ে তথ্য সরবরাহ করেছে এবং ইসরায়েলে যাওয়ার জন্য নিজের সিভি ও বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য