সাবেক মার্কিন নভোচারী ও চিত্রশিল্পী এলান বিন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৮৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মারা যান চাঁদে পা রাখা চতুর্থ মানব। রবিবার হুস্টনের এক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

তার পরিবারের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিন। নভোচারী মাইক মাসিমিনো তাকে বর্ণনা করেন এভাবে- আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন একইসঙ্গে নভোচারী হিসেবে কারিগরি সফলতা ও চিত্রশিল্পী হিসেবে শৈল্পিক সফলতা অর্জনকারী একজন মানুষ।

চাঁদে ভ্রমণের আগে মার্কিন নৌ-বাহিনীর পাইলট ছিলেন এলান বিন। ১৯৬৩ সালে শিক্ষানবিস হিসেবে নাসায় যোগ দেন তিনি। চাঁদে যাওয়া সহ মোট দুইবার মহাকাশে যাত্রা করেন বিন।

প্রথমবার ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে এপোলো-১২ এর ‘লুনার মডিউল পাইলট’ হিসেবে চাঁদে যাত্রা করেন। চতুর্থ মানব হিসেবে চাঁদে পা রাখেন তিনি।

ফিরে আসার পর তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিন বলেন, এটা সাধারণ মানুষের কাছে যতটা না কল্পনার বস্তু ছিল, আমাদের কাছে তার চেয়েও বেশি কল্প-কাহিনীর মতো ছিল। আমরা জানতাম এটা কি পরিমাণ কঠিন ছিল। আমরা জানতাম কতগুলো জিনিস ঠিকঠাক হওয়া প্রয়োজন ছিল। এটা অনেকটা এমন ছিল, আপনি সাহারা মরুভূমির অর্ধেক গেলেন। গাড়ি থামালেন। বের হয়ে সেখানে কয়েকদিন থাকলেন। এরপর আশা করলেন আপনার গাড়ির ব্যাটারি ঠিকঠাক কাজ করছে। কেননা অন্যথায় আপনি শেষ।

বিন দ্বিতীয়বার মহাকাশযাত্রা করেন প্রথম আমেরিকান ‘স্পেস স্টেশন’ স্কাইল্যাবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ফ্লাইটের বিমানের কমান্ডার হিসেবে।

১৯৮১ সালে নভোচারী হিসেবে অবসর নেন বিন। নতুন জীবন শুরু করেন চিত্রশিল্পী হিসেবে। তার আকা চিত্রগুলোতে তার মহাকাশযাত্রার ছাপ পাওয়া যায়। চিত্রশিল্পী হিসেবে বেশ সফল জীবন যাপন করেন তিনি।

বিনের আগে চাঁদে পা রাখেন যথাক্রমে নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন ও চার্লস কনরেড। তারা এপোলো-১১ অভিযানের অংশ হিসেবে সর্বপ্রথম চাঁদে যান। তাদের পরে এপোলো-১২ অভিযানে চাঁদে যাত্রা করেন বিন। সেসময় কনরেড তার সঙ্গে পুনরায় যাত্রা করেছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য