ফাইল ফটো

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও অচল অবস্থা কাটেনি।আন্দোলনের মুখে গত ১৪ দিন থেকে অচল হয়ে পড়েছে খনির উৎপাদনসহ সাভাবিক কর্মকান্ড।

কর্মসূচী চলার ১৪তম দিন গতকাল শনিবার জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি খনিতে এসে আন্দোলনরত শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের সাতে আলোচনায় বসে।

সাথে সাথে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন আন্দোলনরত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে ও ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল মিজানুর রহমান নেতৃত্বে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল।

জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল, সদস্য জ্বালানী বিভাগের উপ-সচিব মুহা. মনিরুজ্জামান ও হাইড্রোকার্বন ইউনিটের পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল কাদের। এই আলোচনায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্মকর্তারাও অংশগ্রহন করেন।

আলোচনার জন্য খনিতে প্রবেশের আগে সকালে খনি গেটে সংবাদ সম্মেরন করেছেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। বেলা ১১ টায় খনির প্রধান ফটকের সামনে এই সংবাদ সম্মেরন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের ঘোষিত ১৩ দফা দাবীর পাশা-পাশি গত ১৫ তারিখের ঘটনায় আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহরের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় আরো কঠোর আন্দোর গড়ে তোলার হুসিয়ারী দেযা হয।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবী, সাধারন সম্পাদক আবু সুফিযঅর, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আরী, ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান মিজান, ও মশিউর রহমান বুলবুর।

উল্লেখ্য গত ১৩মে থেকে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩ দফা দাবীতে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসুচি পালন করে আসছে। শ্রমিক ধর্মঘট চলাকালিন গত ১৫ মে সকালে কয়েকজন কর্মকর্তা খনির ভিতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের সাথে শ্রমিকদের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় উভায় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। এরেই প্রতিবাদে গতকাল শনিবার খনির প্রধান ফটকে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলন কারীরা।

খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন চুক্তি অনুযায়ী রেশন, সাপ্তাহিক ছুটি ওবোনাস দেয়ার কথা থাকলেও গত ৯ মাস থেকে শ্রমিকরা তাদের পাওনা ছুটি রেশন ও বোনাস পাচ্ছেনা।

তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান আবু সুফিয়ান বলেন শ্রমিকদের শান্তিপুর্ন আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে শ্রমিকদের উপর হামলা করে উল্টা শ্রমিকদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছে, এগুলো সবেই ষড়যন্ত্র।

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন আমাদের জমি গেছে জায়গা গেছে অথচ আমাদেরকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার চেয়ার করছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার স্থায়ী সমাধান না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই কথা বলেন ক্ষতি গ্রস্থ গামবাসীর আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য