ইরি-বোরো ধান কাটার রেস কাটতে না কাটতেই গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় বর্ষালী ধান আবাদে ঝুকে পড়েছে কৃষকরা। গত সপ্তাহ থেকে জমিতে ধান রোপন করার জন্য জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন তারা ।

উপজেলার বিশেষ করে উচু এলাকায় ইরি ধান কাটার সাথে সাথে বর্ষালি ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই বোপনকৃত বীজ জমিতে রোপন করার উপযোগি হয়ে যায়।

ইরি/বোরো মৌসুমে ধান পাকার সময় এবং কাটার সময় কাল বৈশাখি ঝড়/বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় কুষকরা নাকাল হয়ে পরলেও আবাদী জমি পতিত রাখতে নারাজ তারা। তাই পুরো বর্ষা নামার আগেই তরি-ঘরি করে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।

জমির আইল কাটা এবং জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ করে রোপনের জন্য তৈরি কাজে চরম ব্যবস্থ হয়ে পরেছেন। সদ্য ধান কাটা শেষ হতে না হতেই কৃষকরা লাভের আশায় ঝুঁকে পরেছেন বর্ষালি ধানের আবাদে।

উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক সোলাইমান প্রধান জানান, এবারে বর্ষালি ধান আবাদের জন্য ইতি মধ্যে ২ বিঘা জমিতে চারা রোপন করেছেন। তিনি আরও বলেন গত মওসুমেও বর্ষালী ধান চাষাবাদ করে ভাল ফলন পাওয়া গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ থেকে মন হারে ধানের ফলন পাওয়া সম্ভম।

শ্রমিক আনোয়ারুল, ছায়েদ আলী ও ছাইদার রহমান জানান, আমরা শ্রম বিক্রি করে দিনাতিপাত করি। ইরি-বোরো ধান কাটার পর আমাদের দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সংকটের শিকার হই।

এখন ওই চিন্তা থেকে রেহাই পেয়েছি। কারণ-বোরো ধান কাটার পরই বর্ষালী ধান রোপন করছেন কৃষকরা। তাই এ চাষাবাদে আমার শ্রম বিক্রি করতে পারছি। এখন আর বসে থাকতে হয়না।

উপজেলার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, বর্ষালী ধান রোপনে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা ব্রি-৪৮ ও ৫৫ এবং কুদরত জাতের ধান রোপন করা শুরু করেছেন। বিঘা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ১১০ দিনের মধ্যে এ ধান কর্তন করে আমন ধান চাষাবাদ করতে পারবেন।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জোবায়দুর রহমান জানান, গত বর্ষালি মৌসুমে এই উপজেলায় মাত্র ৪৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। কৃষকরা ভাল ফলন পাওয়ায় এবারে ১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বর্ষালী ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে ধান চারা রোপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রোপন কাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য