তুরস্কের কাছে লোকহেড মার্টিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য মার্কিন সিনেট কমিটি দেশটির বিদ্যমান একটি আইনে সংশোধনী বিল এনেছে। শুক্রবার ওই সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। তুরস্কে আটক মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিনেট কমিটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডলইস্ট মনিটর এই খবর জানিয়েছে।

২০১৬ সালে তুরস্কে আটক হন মার্কিন নাগরিক খ্রিস্টান ধর্মযাজক ব্রানসন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে বিচার শেষে মে মাসের শেষ দিকে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে তার অন্তত ৩৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট নামের আইনটিতে শুক্রবার সংশোধনী আনেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেন শাহিন ও রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস। এই বিল আনার ক্ষেত্রে গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার কাছ থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৪০০ মিসাইল ক্রয়ে তুরস্কের স্বাক্ষরিত চুক্তিও প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন শাহিন। তিনি জানান, এই চুক্তি মার্কিন আইনে নিষেধাজ্ঞার যোগ্য।

সিনেটর শাহিন বলেন, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা একটি জাতির কাছে সংবেদনশীল এফ-৩৫ বিমান ও স্পর্শকাতর প্রযুক্তি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড দ্বিধা রয়েছে। ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে এই ধরণের বিমানগুলোকে ভূপাতিত করার জন্য।

শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি অক্সয় সাংবাদিকদের বলেছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মিত্রতার মনোভাবের বিরোধী। তিনি জানান, এই বিল পাস হলেই আঙ্কারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে তুরস্ক তাদের বাধানিষেধের বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলে জানিয়ে অক্সয় বলেন, এই কর্মসূচি কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়। এটা একটা বহুজাতিক কর্মসূচি। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তাদের বাধানিষেধ পুরণ করেই এতে শামিল হয়েছে।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বিরোধ দেখা গেছে সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দিবিরোধী তুরস্কের সামরিক অভিযান নিয়ে। এছাড়াও রয়েছে দুই দেশের অভ্যন্তরে পরস্পরের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনগত মামলা।

এই মাসের শুরুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজের আগ্রহ দেখিয়েছেন তবে তার আহ্বান প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

এছাড়া পেনসিলভেনিয়ায় থাকা তুর্কি নাগরিক ফাতুল্লাহ গুলেনকে নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তুরস্কের অভিযোগ, ২০১৬ সালে আঙ্কারায় সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান গুলেন। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে পাত্তা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্ক দাবি করে আসছে, ব্রানসন গুলেন নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রানসনকে ভুল কারণে কারাবন্দি করা হয়েছে দাবি করে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা। গত বছর এরদোয়ান ব্রানসনের বিনিময়ে গুলেনকে ফেরত চাইলেও তা বাতিল করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য