যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপে আঘাত হানার একদিন পর ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় মেকুনু।

ভয়াবহ এ ঝড়ে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ওমানে নিহত দুইজনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক বালিকা অছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ঝড়ো বাতাস মেয়েটিকে উড়িয়ে নিয়ে একটি দেয়ালে আছড়ে ফেললে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রয়েল ওমান পুলিশ পরে ঘূর্ণিঝড়ে আরও এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর দেয়, জানিয়েছে খালিজ টাইমস।

মেকুনুর আঘাতে দোফার ও আল-উয়াস্তা প্রদেশের বিশাল এলাকাজুড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে, পানির নিচে তলিয়ে গেছে ডজনের ওপর গাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ে তিনজন আহত হয়েছে বলেও পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

শুক্রবার মেকুনু প্রবল পরাক্রমশালী রূপ ধারণ করলেও পরের দিকে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। পরের দিকে এটি আরও দুর্বল হয়ে মৌসুমী ঝড়ে পরিণত হবে বলেও ধারণা তাদের।

ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপে আঘাত হানার একদিনের মাথায় মেকুনু ওমানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সালালাহর পশ্চিমে আছড়ে পড়ে। সোকোত্রায় ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে অন্তত ৭জন নিহত হন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার গতির বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই উপকূলীয় এলাকা দোফার ও আল-উয়াস্তা সংলগ্ন কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তরা।

ওমানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানা এলাকা, বিশেষ করে সালালাহর ১০ হাজারের মতো বাসিন্দাকে স্কুল ও সরকারি ভবনে সরিয়ে নিয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে নিত্যনতুন এলাকায় বন্যার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সালালাহতে ২০ সেন্টিমিটারের মত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সালালাহ বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বন্থ রাখা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের সরকার সোকোত্রা দ্বীপকে ‘দুর্যোগ কবলিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

দেশটির মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফাহাদ কাফিন মেকুনুর আঘাতে নিহত ৫ ইয়েমেনি ও দুই ভারতীয়র লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে ১২ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ, জানিয়েছেন তিনি।

ইয়েমেনের সৌদি ও পশ্চিমা সমর্থিত মানসুর আল হাদি সরকারকে সহযোগিতা করতে গত মাসেই সোকোত্রায় সৈন্য পাঠিয়েছিল রিয়াদ। দেশটির বেশিরভাগ অংশ দখলে রাখা হুতি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ধারাবাহিক বোমা হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি-নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের চারপাশ অবরোধ করে রেখেছে। তাদের হামলা, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে বারবার বলে আসছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে অবরোধ প্রত্যাহার ও ইয়েমেনে ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে সহযোগিতা করারও অনুরোধ করেছে তারা।

মেকুনুর কারণে মহারাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে কয়েকদিন ধরে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় আবহাওয়া অফিস।

“ভারত উপকূল থেকে সরে গেছে মেকুনু। তবুও এর প্রভাবে পশ্চিমা উপকূলে তীব্র বর্ষণ হতে পারে,” বলেন এক কর্মকর্তা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য